০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যয় ৩১৫০ কোটি টাকা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৬৭

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনি ব্যয়ের অঙ্ক তিন হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মোট সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩,১৫০ কোটি টাকায়।

গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে এবং প্রচারণার জন্য নির্বাচনি বাজেট থেকে ৬টি মন্ত্রণালয়কে মোট ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইসির তথ্যমতে:
এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর): সর্বোচ্চ ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়: পেয়েছে ৪৬ কোটি টাকা।
অন্যান্য মন্ত্রণালয়: তথ্য, ধর্ম, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কেও বাকি অর্থ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, চারটি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অর্থ ছাড় পেয়েছে এবং বাকি দুটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের প্রচারণা এখনো দৃশ্যমান নয়; মূলত সরকারি টিভি-রেডিওর বিজ্ঞাপন ও কার্যালয়গুলোতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যানার-লিফলেটের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ।

নির্বাচনি ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ১,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে আরও ১,২০০ কোটি টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে পোস্টাল ব্যালট এবং অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী কেনাকাটায় এবার খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, শুরুতে শুধুমাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ২,০৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এর সঙ্গে গণভোট যুক্ত হওয়ায় আরও ১,০৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন পড়ে।
তিনি আরও বলেন:
“গণভোটের জন্য আলাদা ব্যালট পেপার ছাপানো, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ, যাতায়াত ও সরঞ্জাম ক্রয়ের কারণে এই বাড়তি বাজেট প্রয়োজন হয়েছে। বর্তমানে আমরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ এবং প্রশাসনিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করছি।”

উল্লেখ্য, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ৭০০ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালটের জন্য ২৩ টাকা করে খরচ নির্ধারণ করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচন ও গণভোট হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা সাময়িক স্থগিত

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যয় ৩১৫০ কোটি টাকা

আপডেট: ০৭:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনি ব্যয়ের অঙ্ক তিন হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মোট সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩,১৫০ কোটি টাকায়।

গণভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে এবং প্রচারণার জন্য নির্বাচনি বাজেট থেকে ৬টি মন্ত্রণালয়কে মোট ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইসির তথ্যমতে:
এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর): সর্বোচ্চ ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়: পেয়েছে ৪৬ কোটি টাকা।
অন্যান্য মন্ত্রণালয়: তথ্য, ধর্ম, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কেও বাকি অর্থ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, চারটি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অর্থ ছাড় পেয়েছে এবং বাকি দুটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের প্রচারণা এখনো দৃশ্যমান নয়; মূলত সরকারি টিভি-রেডিওর বিজ্ঞাপন ও কার্যালয়গুলোতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যানার-লিফলেটের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ।

নির্বাচনি ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ১,৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে আরও ১,২০০ কোটি টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে পোস্টাল ব্যালট এবং অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী কেনাকাটায় এবার খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানান, শুরুতে শুধুমাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ২,০৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এর সঙ্গে গণভোট যুক্ত হওয়ায় আরও ১,০৭০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন পড়ে।
তিনি আরও বলেন:
“গণভোটের জন্য আলাদা ব্যালট পেপার ছাপানো, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ, যাতায়াত ও সরঞ্জাম ক্রয়ের কারণে এই বাড়তি বাজেট প্রয়োজন হয়েছে। বর্তমানে আমরা প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ এবং প্রশাসনিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করছি।”

উল্লেখ্য, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে ৭০০ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ পোস্টাল ব্যালটের জন্য ২৩ টাকা করে খরচ নির্ধারণ করেছে কমিশন। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচন ও গণভোট হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।