বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘নিউজঅনএয়ার’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী:
আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নয়টি সীমান্ত জেলার প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
যেসব জমির অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ও অর্থ বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে, তা হস্তান্তরে কোনো ধরণের অজুহাত (যেমন: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর) গ্রহণযোগ্য হবে না।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে নিরাপত্তা গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সুব্রত সাহার দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এই আদেশ এল। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে, রাজ্য সরকারের জমি হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সীমান্তে অবৈধ পাচার ও অনুপ্রবেশ বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদালতে জানিয়েছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৮১ কিলোমিটার এলাকার জমি হস্তান্তর করতে সক্ষম হবে। তবে এখনো অনেক জমির মন্ত্রিসভার অনুমোদন বাকি রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত দেড় বছরে সীমান্তে বিএসএফ-এর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিজিবি ও স্থানীয়দের সাথে দফায় দফায় উত্তজনা তৈরি হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: গত বছরের জানুয়ারিতে মৃত পাতিয়া নদীর উন্মুক্ত স্থানে বেড়া নির্মাণ নিয়ে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়।
লালমনিরহাট: পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্তে বিজিবির বাধায় বিএসএফ-এর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
* জয়পুরহাট: গত মাসে পাঁচবিবি সীমান্তেও বিএসএফ বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে পড়ে।
সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি কড়া নজরদারি রাখলেও বিএসএফ সুযোগ পেলেই বেড়া নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের এই আদেশের পর সীমান্ত এলাকায় নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।





















