ভারত ও বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীম কবির ওরফে ‘কিলার শামীম’ (৪৫) এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। বর্তমানে সে ঢাকায় আত্মগোপনে থেকে সোনা চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে ঘিরে যশোরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কুখ্যাত এই খুনি শামীম কবির চৌগাছার সিংহঝুলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি নেতা শাহাবুদ্দীন সাবু বর্তমানে শামীমকে ঢাকায় আশ্রয় দিচ্ছেন। সাবু নিজেকে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। এমনকি ২০১৩ সালে যশোরের দড়াটানা মোড়ে বিএনপির কর্মসূচিতে বোমা সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
১৯৯৪ সালে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে অপরাধ জগতে কিলার শামীমের হাতেখড়ি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৫টি হত্যা মামলাসহ অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে। দুটি অস্ত্র মামলায় সে যথাক্রমে ৭ ও ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
১৯৯৯: বিএনপি নেতা মকবুল ও সহিদুল হত্যা। ২০১২: শিশু সৌরভ সাহা অপহরণ ও হত্যা। : ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান মিন্টুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা। : ভারতে আত্মগোপনে থাকাকালে সেখানেও একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ৫ আগস্টের পর শামীম এলাকা ছাড়লেও তার সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম সাগরের মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বজায় রেখেছে। সাগর নিয়মিত শামীমের কাছে এলাকার তথ্য পাঠায় এবং তার অবৈধ নেটওয়ার্ক সচল রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া এই অপকর্মে শার্শার নাভারণের সাবেক চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন ও সীমান্ত এলাকার শফিকুল মেম্বারের নামও উঠে এসেছে।
যশোরের সাধারণ মানুষ এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান:
“শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আটক করতে পুলিশ সর্বদা মাঠে রয়েছে। দ্রুত অভিযান চালিয়ে কিলার শামীমসহ সব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
নির্বাচনকালীন সহিংসতা এড়াতে এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।





















