গোপালগঞ্জের জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা সাইদুর রহমান বাসু হত্যাকাণ্ডের এক দশক পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। রায়ে ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী ও ঝন্টু শেখ। আদালতের পর্যবেক্ষণে তাদের অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ এই সাজা দেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন রাতে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কুয়াডাঙ্গা অফিস থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় ফিরছিলেন সাইদুর রহমান বাসু। পথে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। পরদিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এই শ্রমিক নেতা।
হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি নিহতের ভাই জাসু শেখ বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
* অভিযোগ গঠন: ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট গোপালগঞ্জের দায়রা জজ আদালতে বিচার শুরু হয়।
* স্থানান্তর: ২০১৮ সালে দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুর রশীদ মোল্লা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছরের অপেক্ষা শেষে আজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই রায় প্রমাণ করে যে, আইনের শাসন দেরিতে হলেও অপরাধীদের ছাড় দেয় না। এটি শ্রমিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করবে।”
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে নিহতের স্বজনদের আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। তারা দ্রুত এই দণ্ড কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।





















