০৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

চাচাকে বাবা সাজিয়ে বিসিএস ক্যাডার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫৮

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে নিজের জন্মদাতা পিতা বানিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।

দুদকের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মো. কামাল হোসেনের প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেম এবং মা মোছা. হাবীয়া খাতুন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুযোগ-সুবিধা ভোগের নেশায় তিনি আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজান। এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান।

তদন্তে দেখা গেছে, কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তাঁর প্রকৃত বাবা আবুল কাশেমের নামই ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় কৌশলে বাবার নাম পরিবর্তন করে চাচার নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, কামাল হোসেন এর আগে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আদালত তখন ডিএনএ পরীক্ষা করার শর্তে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। কিন্তু আসামি দুবার ডিএনএ পরীক্ষার শর্ত লঙ্ঘন করায় এবং তদন্তে সহযোগিতা না করায় আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে কামালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করেন। জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

মাগুরায় বসে যশোরে মাদকের জাল: নেপথ্যে রহস্যময়ী জেরিন

চাচাকে বাবা সাজিয়ে বিসিএস ক্যাডার

আপডেট: ০৪:০১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে নিজের জন্মদাতা পিতা বানিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।

দুদকের মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মো. কামাল হোসেনের প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেম এবং মা মোছা. হাবীয়া খাতুন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সুযোগ-সুবিধা ভোগের নেশায় তিনি আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজান। এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান।

তদন্তে দেখা গেছে, কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তাঁর প্রকৃত বাবা আবুল কাশেমের নামই ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশনের সময় কৌশলে বাবার নাম পরিবর্তন করে চাচার নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

দুদকের প্রসিকিউটর দেলোয়ার জাহান রুমি জানান, কামাল হোসেন এর আগে উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আদালত তখন ডিএনএ পরীক্ষা করার শর্তে তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। কিন্তু আসামি দুবার ডিএনএ পরীক্ষার শর্ত লঙ্ঘন করায় এবং তদন্তে সহযোগিতা না করায় আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে কামালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা করেন। জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।