যশোরের চৌগাছা উপজেলার ২ নম্বর পাশাপোল ইউনিয়নে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গ্রাম পুলিশের চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সচিবকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদের মাধ্যমে তারা এই নিয়োগ বাগিয়ে নেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম ও মকবুল হোসেনের নথিপত্রে বয়স নিয়ে চরম অসংলগ্নতা রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম: তার নিয়োগপত্রে জন্মতারিখ দেখানো হয়েছে ৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৬। অথচ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অনুযায়ী তার জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৭৯। অর্থাৎ, চাকরিতে যোগদানের সময় নথিপত্রে তাকে ১৫ বছরের কিশোর দেখানো হয়েছিল।
মোঃ মকবুল হোসেন: তার নিয়োগপত্রে জন্মতারিখ ২০ অক্টোবর ১৯৮৪ উল্লেখ করা হলেও এনআইডি অনুযায়ী তার প্রকৃত জন্ম ১২ জুন ১৯৬৩। অর্থাৎ, চাকরিতে প্রবেশের সময় তার বয়স ছিল ৪৮ বছর, যা নিয়োগ বিধির পরিপন্থী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান ও তৎকালীন সচিব ইবাদত হোসেনের যোগসাজশে এই জালিয়াতি করা হয়। নিয়োগ পেতে তারা মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রভাবের কারণে কেউ এই অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ও মকবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তারা দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তারা জানান, “তৎকালীন চেয়ারম্যান আমাদের যেভাবে কাগজপত্র জমা দিতে বলেছিলেন, আমরা সেভাবেই দিয়েছি। নথিপত্রে কী লেখা ছিল বা কী জালিয়াতি হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।”
জালিয়াতির মূল কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
চৌগাছা উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও একই কায়দায় গ্রাম পুলিশ নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।





















