রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (ইইউবি) বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাবেক ভিসি ড. মকবুল আহমেদ খান এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় নামীয় আসামীরা হলেন— ইমরান, রফিকুল ইসলাম, মনির হোসেন, মুন্সি আব্দুর রহমান ও মামুন ডাকুয়া। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৩৫ জনকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী লুৎফর রহমান জানান, গত ২২ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদ খান একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান চেয়ারম্যান আহমেদ ফরহাদ খান তানিমের কক্ষের নেমপ্লেট খুলে ফেলে এবং বাদি ও সাক্ষীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২২ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিন ক্যাম্পাসে হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের এক রায়ে (রিট পিটিশন নং ৪০৩৫/২৫) ড. মকবুল আহমেদ খানকে কেবল বয়সজনিত কারণে একজন সহযোগীসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে দলবল বা বহিরাগত নিয়ে প্রবেশে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ছিল।
অভিযোগ উঠেছে, মকবুল আহমেদ খান সেই রায় উপেক্ষা করে তথাকথিত ‘পেকুয়া বাহিনী’ এবং স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা চালান। এর মধ্যে হত্যা মামলার আসামি সান্তনু হোসেন রুবেল ওরফে ‘পটেটো রুবেল’ এবং বহিষ্কৃত কিছু শিক্ষার্থী ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়:
* সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের ব্যবসায়ীক পার্টনার হিসেবে পরিচিত আসামি ফারজানা আলম ও সাবেক ভিসি মকবুল আহমেদ খান।
* ৪ নম্বর আসামি ওয়াসিউজ্জমান লেলিন কেন্দ্রীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি।
* অভিযোগ অনুযায়ী, এরা পরস্পর যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশের ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই দিনের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। ঘটনার পর দারুস সালাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তদন্তাধীন রয়েছে।





















