২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও ছয়জনকে হত্যার দায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালত এই মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
১. হাবিবুর রহমান: সাবেক ডিএমপি কমিশনার।
২. সুদীপ কুমার চক্রবর্তী: সাবেক যুগ্ম কমিশনার।
৩. শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম: সাবেক এডিসি (রমনা)।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা:
* মোহাম্মদ ইমরুল (সাবেক এসি, রমনা): ৬ বছরের কারাদণ্ড (পলাতক)।
* মো. আরশাদ হোসেন (সাবেক পরিদর্শক, শাহবাগ থানা): ৪ বছরের কারাদণ্ড।
* কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম: প্রত্যেকের ৩ বছর করে কারাদণ্ড।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক শহীদ হন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।
গত ১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। মামলায় মোট ২৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। শহীদ আনাসের বাবার সাক্ষ্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বিটিভি’তে সরাসরি সম্প্রচারিত এই রায়ে আদালত বলেন, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ মদদে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা ক্ষমার অযোগ্য।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তাদের সহযোগিতায় ছিলেন গাজী এমএইচ তামীম ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অন্যান্যরা। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের পক্ষে আইনজীবী জিয়াউর রশিদ এবং পলাতক চারজনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী কুতুবউদ্দিন আহমেদ মামলা পরিচালনা করেন।





















