০১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জামালগঞ্জে ইউএনওকে দায়ী করে এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হলো আরিফুর রহমান শান্তকে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:২১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৫

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পোস্টটি নজরে আসার পর পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা এসিল্যান্ডের সরকারি বাসভবনে যান। তবে ফেসবুক পোস্টের পেছনের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বাসায় ছোট পরিসরে কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত ও তাঁর স্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই নিজ বাসভবনে ফিরে যান। এর কিছুক্ষণ পর এসিল্যান্ডের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে তাঁর মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করা হয়।

এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে শিল্পী রানী মোদক জানান, পোস্টটি দেওয়ার মাত্র ছয় মিনিট আগেও এসিল্যান্ড তাঁর বাসায় সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন। কেন তাঁর নাম উল্লেখ করে এমন পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান।

ইউএনও আরও বলেন, আরিফুর রহমান শান্ত সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরে এলে এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের বক্তব্য অনুযায়ী, এসিল্যান্ডের স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা গেছে, আরিফুর রহমান শান্তের আগে থেকেই কিছু স্বাস্থ্যগত জটিলতা ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। শিশুটির নিথর দেহ দেখার পর থেকে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে তাঁর শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়নি। তাই চিকিৎসাগত তথ্য নিশ্চিত না করে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

ঘটনার রাতে এসিল্যান্ডের আচরণ নিয়ে আরও কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। ইউএনওর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একজন কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে মারধর করেন, ইউএনওর তিন বছর বয়সী মেয়েকে হুমকি দেন এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির খবর পেয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও চিকিৎসকেরা তাঁর সরকারি বাসভবনে উপস্থিত হন।

ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় আরিফুর রহমান শান্তের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসিল্যান্ডের স্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাঁকে প্রথমে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুরের দিকে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এবং বিকালের দিকে ঢাকায় পৌঁছান।

তবে বর্তমানে তিনি ঢাকার কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফেসবুক পোস্টের কারণ, ঘটনার আগের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

নিজের মৃত্যুর জন্য একজন সহকর্মীকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার ঘটনাটি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে শুধু পোস্টের ভিত্তিতে ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে এসিল্যান্ডের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কেও চিকিৎসকদের মূল্যায়ন ছাড়া অনুমান করা উচিত নয়।

আরিফুর রহমান শান্ত সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা গেলে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা।

সর্বাধিক পঠিত

পাটগ্রাম সীমান্তে পাথর শ্রমিকদের লক্ষ্য করে বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ

জামালগঞ্জে ইউএনওকে দায়ী করে এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় নেওয়া হলো আরিফুর রহমান শান্তকে

আপডেট: ১১:২১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) মো. আরিফুর রহমান শান্তকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যান।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পোস্টটি নজরে আসার পর পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা এসিল্যান্ডের সরকারি বাসভবনে যান। তবে ফেসবুক পোস্টের পেছনের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী মোদক গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে বাসায় ছোট পরিসরে কেক কাটার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত ও তাঁর স্ত্রী আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই নিজ বাসভবনে ফিরে যান। এর কিছুক্ষণ পর এসিল্যান্ডের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে তাঁর মৃত্যুর জন্য ইউএনওকে দায়ী করা হয়।

এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে শিল্পী রানী মোদক জানান, পোস্টটি দেওয়ার মাত্র ছয় মিনিট আগেও এসিল্যান্ড তাঁর বাসায় সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন। কেন তাঁর নাম উল্লেখ করে এমন পোস্ট দেওয়া হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না বলেও জানান।

ইউএনও আরও বলেন, আরিফুর রহমান শান্ত সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে ফিরে এলে এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন। পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের বক্তব্য অনুযায়ী, এসিল্যান্ডের স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা গেছে, আরিফুর রহমান শান্তের আগে থেকেই কিছু স্বাস্থ্যগত জটিলতা ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে জামালগঞ্জে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তাঁকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। শিশুটির নিথর দেহ দেখার পর থেকে তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে তাঁর শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন প্রকাশিত হয়নি। তাই চিকিৎসাগত তথ্য নিশ্চিত না করে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

ঘটনার রাতে এসিল্যান্ডের আচরণ নিয়ে আরও কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। ইউএনওর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি একজন কর্তব্যরত আনসার সদস্যকে মারধর করেন, ইউএনওর তিন বছর বয়সী মেয়েকে হুমকি দেন এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির খবর পেয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও চিকিৎসকেরা তাঁর সরকারি বাসভবনে উপস্থিত হন।

ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় আরিফুর রহমান শান্তের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসিল্যান্ডের স্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাঁকে প্রথমে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁকে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুরের দিকে স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এবং বিকালের দিকে ঢাকায় পৌঁছান।

তবে বর্তমানে তিনি ঢাকার কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর জামালগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফেসবুক পোস্টের কারণ, ঘটনার আগের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

নিজের মৃত্যুর জন্য একজন সহকর্মীকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার ঘটনাটি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে শুধু পোস্টের ভিত্তিতে ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। একইভাবে এসিল্যান্ডের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কেও চিকিৎসকদের মূল্যায়ন ছাড়া অনুমান করা উচিত নয়।

আরিফুর রহমান শান্ত সুস্থ হয়ে উঠলে তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা গেলে ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাঁর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা।