বই পড়ার অভ্যাস মানুষের চিন্তাশক্তিকে প্রসারিত করে, দৃষ্টিভঙ্গিকে উদার করে এবং সঠিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
রোববার সকালে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির আলমগীর সিদ্দিকী হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই ও লাইব্রেরি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পাঠাভ্যাস হোক জ্ঞান অর্জনের ভিত্তি’ প্রতিপাদ্যে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই। আর জ্ঞান অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো বই পড়ার অভ্যাস। বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিক্ষার্থীরা ক্রমেই স্ক্রিননির্ভর হয়ে পড়ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বজায় রেখেও তাদের বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।
তিনি বলেন, বই শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তা, মনন ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করে। একটি ভালো বই একজন শিক্ষার্থীর চিন্তাধারা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ জীবনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও ইতিহাসভিত্তিক বই পড়া শিক্ষার্থীদের মানস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লাইব্রেরি জ্ঞানের বাতিঘর। শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া লাইব্রেরি কার্ড শুধু একটি কার্ড নয়, এটি জ্ঞানের বিশাল জগতে প্রবেশের সুযোগ।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, পাঠাভ্যাস গড়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করবে না, তারা যুক্তিবাদী, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবেও গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তাদের জ্ঞানী, দক্ষ ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ. জেড. এম. সালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন লাইব্রেরি সেক্রেটারি প্রফেসর শেখ জুলফিকার আলী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এমএসটিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম, ইসলামিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক এবং মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর সবুর খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর ইনস্টিটিউটের ক্রীড়া সম্পাদক শাহাবুদ্দিন সাবু, সদস্য আনিসুজ্জামান পিন্টু, শাহনেওয়াজ লেলীন, হাবিবুর রহমান রুবেল এবং লাইব্রেরি কমিটির সদস্য সাইফুদ দৌলা বাশারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচির আওতায় যশোর জিলা স্কুল, যশোর কালেক্টরেট স্কুল, এমএসটিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বই ও যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সদস্য কার্ড বিতরণ করা হয়।




















