সরকার পরিবর্তনের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষার পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন সিলেবাসে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পরিবর্তে পাঠ্যসূচিতে যুক্ত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথেরই ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতা।
পশ্চিমবঙ্গের সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ইউরোপীয় সভ্যতা ও এর বিভিন্ন দিক যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সনাতনী পরম্পরাকে বিবেচনায় রেখে ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতাটি পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, ইতিহাসের পাঠ্যক্রমেও একাধিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন সিলেবাসে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘মেবার পতন’ নাটক যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে এতদিনের পাঠ্যসূচিতে থাকা ‘সিরাজদৌল্লা’ নাটক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময়ে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হওয়া ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’ অধ্যায়টিও নতুন ইতিহাসের বই থেকে বাদ যাচ্ছে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। নতুন পাঠ্যপুস্তকে এই অধ্যায় আর রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান।
পাশাপাশি ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের ইতিহাসও নতুন পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে যে নতুন পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়ার কথা, তাতে সিঙ্গুর আন্দোলন ও কন্যাশ্রী প্রকল্পের ইতিহাস থাকবে না।
নতুন সিলেবাসে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইতিহাসে কমিউনিজমের ওপর আগের মতো গুরুত্ব না রাখার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভাষার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাঠ্যবই থেকে ‘পানি’, ‘আব্বা’ ও ‘আম্মু’-র মতো শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে।
ফলে নতুন পাঠ্যক্রমে রবীন্দ্রনাথের কবিতা নির্বাচন থেকে শুরু করে ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় এবং ভাষার ব্যবহার—একাধিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছে।




















