দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৯ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর মাঝে নিজ অর্থায়নে ছাগল বিতরণ করেছেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজারস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান, শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাফা উদ্দিন খাঁ, উপজেলা প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক শাহিন আলম খান, বেনাপোল পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মফিজুর রহমান বাবু, সদস্য সচিব রাহানুজ্জামান দিপু, শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন, বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়া বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
যেসব নারীর হাতে তুলে দেওয়া হয় ছাগল
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত ৯ জন অসহায় নারীর হাতে একটি করে ছাগল তুলে দেওয়া হয়। তারা হলেন—
১ নম্বর ওয়ার্ড (সরবানহুদা ও রঘুনাথপুর): সৈরুপী খাতুন।
২ নম্বর ওয়ার্ড (ঘিবা দক্ষিণ): শখী বেগম।
৩ নম্বর ওয়ার্ড (ঘিবা উত্তর): শাবানা খাতুন।
৪ নম্বর ওয়ার্ড (ধান্যখোলা উত্তর): তানজিলা খাতুন।
৫ নম্বর ওয়ার্ড (ধান্যখোলা দক্ষিণ): লিপি খাতুন।
৬ নম্বর ওয়ার্ড (বোয়ালিয়া মানিক): চম্পা (স্বামী: জিয়াউর রহমান)।
৭ নম্বর ওয়ার্ড (বাহাদুরপুর): মল্লিকা খাতুন।
৮ নম্বর ওয়ার্ড (শাখারীপোতা): মরিয়ম বেগম।
৯ নম্বর ওয়ার্ড (ডুবপাড়া-নটাদিঘা): হালিমা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন বলেন, “বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সঙ্গে আমাদের জীবন কাটিয়ে দিতে চাই। আমাদের দেশনায়ক তারেক রহমান জনগণের সঙ্গে মিশে রাজনীতি করার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই ধারাবাহিকতায় আমরা মানুষের পাশে থেকে মানবিক রাজনীতি করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রবিউল ইসলাম রবি নিজের অর্থায়নে যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।”
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও সামাজিক দায়িত্ব। ছাগল পালনের মাধ্যমে উপকারভোগী নারীরা ভবিষ্যতে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে নিজেদের পরিবারে আর্থিক ভূমিকা রাখতে পারবেন।
ছাগল পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন উপকারভোগী নারীরা। তারা জানান, এই সহায়তা তাদের কাছে নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে। ছাগল লালন-পালনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, বাহাদুরপুর ইউনিয়নে এ ধরনের উদ্যোগ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক এমন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।




















