০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

আতিয়ার হত্যা মামলায় ডিবি বা পিবিআই তদন্তের দাবি পরিবারের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৫০৯

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে নিহতের ভাই রাশেদ আলী প্রশাসনের প্রতি এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার ভাই আতিয়ার রহমান রড গোবিন্দপুর বাজারে পাহারাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু পরদিন সকাল পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

রাশেদ আলীর দাবি, বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওসমান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রড গোবিন্দপুর বাওড়ের ডানেরবিল ক্যানেলের কচুরিপানার নিচ থেকে আতিয়ার রহমানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ওসমানের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তীতে সুজা ও কবির নামে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তবে তদন্তের এক পর্যায়ে মূল সন্দেহভাজনদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

রাশেদ আলী অভিযোগ করেন, “লাশ উদ্ধারের পর মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ওসমানের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে এলেও পরে মামলার কাগজপত্রে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা হতাশ ও উদ্বিগ্ন।”

তিনি আরও জানান, পরে তিনি বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলার এজাহারভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নিতে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অথবা Police Bureau of Investigation-এর কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিহতের পরিবার বলেছে, “আমরা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির শাস্তি চাই না, আবার প্রকৃত অপরাধীরাও যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

তবে পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে সহকর্মীর সঙ্গে সংঘর্ষে হোটেল কর্মী আহত

আতিয়ার হত্যা মামলায় ডিবি বা পিবিআই তদন্তের দাবি পরিবারের

আপডেট: ০৫:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বক্তব্যে নিহতের ভাই রাশেদ আলী প্রশাসনের প্রতি এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, তার ভাই আতিয়ার রহমান রড গোবিন্দপুর বাজারে পাহারাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখ রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হন। কিন্তু পরদিন সকাল পর্যন্ত বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

রাশেদ আলীর দাবি, বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওসমান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রড গোবিন্দপুর বাওড়ের ডানেরবিল ক্যানেলের কচুরিপানার নিচ থেকে আতিয়ার রহমানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ওসমানের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তীতে সুজা ও কবির নামে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তবে তদন্তের এক পর্যায়ে মূল সন্দেহভাজনদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

রাশেদ আলী অভিযোগ করেন, “লাশ উদ্ধারের পর মামলার প্রাথমিক পর্যায়ে ওসমানের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে এলেও পরে মামলার কাগজপত্রে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা হতাশ ও উদ্বিগ্ন।”

তিনি আরও জানান, পরে তিনি বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু মামলার এজাহারভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নিতে পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অথবা Police Bureau of Investigation-এর কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিহতের পরিবার বলেছে, “আমরা কোনো নির্দোষ ব্যক্তির শাস্তি চাই না, আবার প্রকৃত অপরাধীরাও যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে। একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

তবে পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।