১১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যা: অভিযুক্ত হিশামকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অতীতেও ছিল সহিংসতার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৯

যুক্তরাষ্ট্রের University of South Florida-এ অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ পাচ্ছে তার অতীতের সহিংস আচরণ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং পারিবারিক বিরোধের ইতিহাস।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ একজন মার্কিন নাগরিক এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তিনি নিহত জামিল আহমেদ লিমনের সাবেক রুমমেট ছিলেন। লিমন University of South Florida-এর ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিভাগে পিএইচডি গবেষক ছিলেন।

একই ঘটনায় নিখোঁজ হন আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, যিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে খুঁজে পেতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে, হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এটি ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার’ হিসেবে বিবেচিত—যা সবচেয়ে গুরুতর হত্যার অভিযোগগুলোর একটি।

তদন্তে জানা গেছে, হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত University of South Florida-এ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না।

আদালতের নথিপত্রে দেখা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং একটি জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও সেসব অভিযোগকে সে সময় তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হিশামের সহিংস আচরণের কারণে তার নিজের পরিবারের একজন সদস্য তার বিরুদ্ধে দুটি ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশন’ বা পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আবেদন আদালত অনুমোদনও করেছিল। এটি তার ব্যক্তিগত আচরণ ও মানসিক স্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

হিলসবরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি Joseph Maurer জানিয়েছেন, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ফ্লোরিডার Howard Frankland Bridge এলাকায় লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বর্তমানে হিশামের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ছাড়াও আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৃত্যুর সংবাদ গোপন রাখা, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধভাবে কাউকে আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাত।

পুলিশ জানিয়েছে, জামিল আহমেদ লিমনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন সবার নজর।

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যা: অভিযুক্ত হিশামকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অতীতেও ছিল সহিংসতার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যা: অভিযুক্ত হিশামকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অতীতেও ছিল সহিংসতার অভিযোগ

আপডেট: ১১:১৯:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের University of South Florida-এ অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই প্রকাশ পাচ্ছে তার অতীতের সহিংস আচরণ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং পারিবারিক বিরোধের ইতিহাস।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুগারবিয়েহ একজন মার্কিন নাগরিক এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। তিনি নিহত জামিল আহমেদ লিমনের সাবেক রুমমেট ছিলেন। লিমন University of South Florida-এর ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিভাগে পিএইচডি গবেষক ছিলেন।

একই ঘটনায় নিখোঁজ হন আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, যিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে খুঁজে পেতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় জানিয়েছে, হিশামের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে এটি ‘ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার’ হিসেবে বিবেচিত—যা সবচেয়ে গুরুতর হত্যার অভিযোগগুলোর একটি।

তদন্তে জানা গেছে, হিশাম ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত University of South Florida-এ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়ন করেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তিনি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না।

আদালতের নথিপত্রে দেখা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল। ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং একটি জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও সেসব অভিযোগকে সে সময় তুলনামূলক কম গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হিশামের সহিংস আচরণের কারণে তার নিজের পরিবারের একজন সদস্য তার বিরুদ্ধে দুটি ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশন’ বা পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে একটি আবেদন আদালত অনুমোদনও করেছিল। এটি তার ব্যক্তিগত আচরণ ও মানসিক স্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

হিলসবরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি Joseph Maurer জানিয়েছেন, লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ফ্লোরিডার Howard Frankland Bridge এলাকায় লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বর্তমানে হিশামের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ ছাড়াও আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৃত্যুর সংবাদ গোপন রাখা, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধভাবে কাউকে আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাত।

পুলিশ জানিয়েছে, জামিল আহমেদ লিমনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন সবার নজর।