১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সোমালিয়ার উপকূলে ফের জলদস্যু হামলা: তেলবাহী জাহাজ ‘অনার-২৫’ দখল, ১১ পাকিস্তানি নাবিক জিম্মি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১০

সোমালিয়ার উপকূলবর্তী ভারত মহাসাগরে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বিশ্বকে নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ‘অনার-২৫’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ দখল করে নিয়েছে সোমালি জলদস্যুরা। জাহাজটিতে থাকা ১১ জন পাকিস্তানি নাবিক বর্তমানে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা ও দ্রুত উদ্ধারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।

শনিবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম Geo News-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২১ এপ্রিল সোমালিয়ার উপকূলের কাছে জলদস্যুরা জাহাজটিতে হামলা চালায়। হামলার পর জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর থেকেই জাহাজের নাবিকরা কার্যত দস্যুদের জিম্মি হয়ে পড়েন।

পাকিস্তানের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিম্মি নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধারে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী Junaid Anwar Chaudhry সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও তলব করা হয়েছে। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নাবিকদের দ্রুত মুক্ত করা সম্ভব হয়।

এ ঘটনায় Somalia সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। জলদস্যুদের অবস্থান, জাহাজের বর্তমান অবস্থা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে একই ধরনের এক ঘটনায় সোমালিয়ার জলদস্যুরা বাংলাদেশের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ অপহরণ করেছিল। সেই ঘটনায় ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিককে দীর্ঘদিন জিম্মি করে রাখা হয়। পরে মুক্তিপণ পরিশোধের পর তারা মুক্তি পান। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে জলদস্যুতার ঝুঁকি নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত মহাসাগর ও সোমালিয়া উপকূলে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর উপস্থিতি কমে যাওয়ায় জলদস্যুরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য নতুন হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জিম্মি নাবিকদের মুক্ত করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী হত্যা: অভিযুক্ত হিশামকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য, অতীতেও ছিল সহিংসতার অভিযোগ

সোমালিয়ার উপকূলে ফের জলদস্যু হামলা: তেলবাহী জাহাজ ‘অনার-২৫’ দখল, ১১ পাকিস্তানি নাবিক জিম্মি

আপডেট: ১১:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সোমালিয়ার উপকূলবর্তী ভারত মহাসাগরে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বিশ্বকে নতুন করে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ‘অনার-২৫’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ দখল করে নিয়েছে সোমালি জলদস্যুরা। জাহাজটিতে থাকা ১১ জন পাকিস্তানি নাবিক বর্তমানে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। তাদের নিরাপত্তা ও দ্রুত উদ্ধারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।

শনিবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম Geo News-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২১ এপ্রিল সোমালিয়ার উপকূলের কাছে জলদস্যুরা জাহাজটিতে হামলা চালায়। হামলার পর জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর থেকেই জাহাজের নাবিকরা কার্যত দস্যুদের জিম্মি হয়ে পড়েন।

পাকিস্তানের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিম্মি নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধারে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী Junaid Anwar Chaudhry সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও তলব করা হয়েছে। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নাবিকদের দ্রুত মুক্ত করা সম্ভব হয়।

এ ঘটনায় Somalia সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। জলদস্যুদের অবস্থান, জাহাজের বর্তমান অবস্থা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে একই ধরনের এক ঘটনায় সোমালিয়ার জলদস্যুরা বাংলাদেশের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ অপহরণ করেছিল। সেই ঘটনায় ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিককে দীর্ঘদিন জিম্মি করে রাখা হয়। পরে মুক্তিপণ পরিশোধের পর তারা মুক্তি পান। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে জলদস্যুতার ঝুঁকি নতুন করে সামনে নিয়ে আসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত মহাসাগর ও সোমালিয়া উপকূলে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর উপস্থিতি কমে যাওয়ায় জলদস্যুরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল, নাবিকদের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য নতুন হুমকির মুখে পড়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এ পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে জিম্মি নাবিকদের মুক্ত করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।