বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানিকৃত ১৭.১০ মেট্রিক টন নিষিদ্ধ পাট বীজের এক বিশাল চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ১৫ নম্বর শেডে অভিযান চালিয়ে এই জালিয়াতি ধরা পড়ে। আটককৃত এই বীজের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
কাস্টমস ও বন্দর সূত্র জানায়, গত ৮ মার্চ ভারতের পেট্রাপোল বন্দর হয়ে এই পণ্য চালানটি বেনাপোলে প্রবেশ করে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘আরাফাত এন্টারপ্রাইজ’ মূলত ৪৫ মেট্রিক টন ঘাসের বীজ আমদানির ঘোষণা দিয়েছিল। পণ্যটি খালাসের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘কদর অ্যান্ড কোং’।
তবে সোমবার কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেনের নেতৃত্বে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা পণ্যটি কায়িক পরীক্ষা করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। সেখানে ৪৫ মেট্রিক টন ঘাসের বীজের মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫৬৭ বস্তা আমদানিনিষিদ্ধ পাট বীজ খুঁজে পাওয়া যায়।
বেনাপোল স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক আবু তালহা এই বিষয়ে বলেন:
> “বর্তমানে সরকারিভাবে পাট বীজ আমদানির কোনো অনুমোদন নেই। আমদানিকারক অত্যন্ত কৌশলে বৈধ ঘাসের বীজের আড়ালে এই নিষিদ্ধ পণ্যটি আনার চেষ্টা করেছিল। এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
>
?
এদিকে, এই বিশাল জালিয়াতির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, বেনাপোল বন্দরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস ও বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের নিম্নমানের ও নিষিদ্ধ বীজ দেশের কৃষি খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
বেনাপোল কাস্টমস জানিয়েছে, দোষী আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





















