যশোরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মাহমুদা নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে শহরের ব্যস্ততম এইচ.এম.এম রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মাহমুদা এলাকায় চিহ্নিত প্রতারক এবং ‘মামলাবাজ’ হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যক্তি মাহমুদাকে বড়বাজার এলাকায় দেখতে পেয়ে চিনে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা তাকে আটকে রাখেন এবং অন্যান্য ভুক্তভোগীদের খবর দেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন মাহমুদার ছেলে মাহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় উত্তেজিত জনতা মাহমুদাকে মারধর করে এবং পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
আটক মাহমুদার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। তাদের দাবি:
* আর্থিক প্রতারণা: ইন্স্যুরেন্সের কিস্তি সংগ্রহ, সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে তিনি অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
* মামলা দিয়ে হয়রানি: স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করার পর উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন।
* রাজনৈতিক পরিচয়: জানা গেছে, গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি যশোর-৪ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলেও দাবি ভুক্তভোগীদের।
যশোরের আলোচিত ‘মহুয়া ক্লিনিক’-এর মালিক খলিলের সাবেক স্ত্রী ছিলেন এই মাহমুদা। তার একাধিক বিয়ে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এলাকায় নানা মুখরোচক আলোচনা রয়েছে। ইতিপূর্বে নানা বিতর্কের কারণে তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, মাহমুদাকে বর্তমানে থানায় রাখা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন:
> “আমরা তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছি। ভুক্তভোগীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
>





















