দেশের স্থবির হয়ে থাকা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সচল করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় এই তিন বড় সিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার পরপরই পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি অপসারিত হওয়ায় বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
সিটি করপোরেশনগুলোর বর্তমান আইনি পরিস্থিতি: ঢাকা দক্ষিণ: গত বছরের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে।
ঢাকা উত্তর: ২০২৫ সালের ২ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।
চট্টগ্রাম: আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এই সিটির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে এই তিন সিটিতে নির্বাচন আয়োজন এখন সময়ের দাবি।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় জানিয়েছে, চিঠি পাওয়ার পর দ্রুতই ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণ এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের কাজ শুরু হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হতে চলায় সেখানে জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
“সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই আমরা সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আয়োজনের পথে এগোব। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।”
— আখতার আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সচিব, নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী ঈদুল ফিতরের পর স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এই রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়েছিল। বর্তমানে শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তারা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।





















