১২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে প্রেমের ফাঁদে ধর্ষণ, অন্তরঙ্গ ছবি ছড়ানোর অভিযোগে ফয়সাল গ্রেপ্তার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৩

প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং পরে অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যশোরের শংকরপুর এলাকার শেখ এহেসান আহমেদ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ।
বুধবার সকালে যশোর শহরের শংকরপুর আকবরের মোড় এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ফয়সাল শামীম আহমেদ মানুয়ার ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভয়নগরের ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জুয়েল হোসেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার বিকেলে ফয়সালকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, যশোরের অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের সোনিয়া আক্তার দিয়ার সঙ্গে ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ফয়সালের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফয়সাল সোনিয়াকে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৫ সালের ১৫ মে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। মীমাংসার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি ফয়সাল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত ফয়সাল তাদের ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।

পর্নোগ্রাফি আইনের ওই মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার দিয়া প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে, ফয়সালের পরিবারের দাবি, সোনিয়া তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে তিনি একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

২৭ এপ্রিল যশোর সফর ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

যশোরে প্রেমের ফাঁদে ধর্ষণ, অন্তরঙ্গ ছবি ছড়ানোর অভিযোগে ফয়সাল গ্রেপ্তার

আপডেট: ০৯:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং পরে অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় যশোরের শংকরপুর এলাকার শেখ এহেসান আহমেদ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ।
বুধবার সকালে যশোর শহরের শংকরপুর আকবরের মোড় এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ফয়সাল শামীম আহমেদ মানুয়ার ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভয়নগরের ভাটপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক জুয়েল হোসেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার বিকেলে ফয়সালকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, যশোরের অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের সোনিয়া আক্তার দিয়ার সঙ্গে ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ফয়সালের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ফয়সাল সোনিয়াকে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে নিয়ে যান। সেখানে একটি হোটেলে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৫ সালের ১৫ মে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। মীমাংসার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে ফেলে রাখা হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি ফয়সাল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত ফয়সাল তাদের ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।

পর্নোগ্রাফি আইনের ওই মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর অবশেষে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উল্লেখ্য, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার দিয়া প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেন।

অন্যদিকে, ফয়সালের পরিবারের দাবি, সোনিয়া তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে তিনি একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।