যশোর শহরের পুরাতন কসবা ঘোষপাড়া (বিবি রোড) এলাকার একটি বাড়িতে আলমারির ভেতর থেকে প্রায় ১২ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ওই বাড়ির কাজের মহিলাসহ তিনজনকে আসামি করে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভুক্তভোগী ফজলুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তিনি মৃত রুহুল আমিন বিশ্বাসের ছেলে এবং শহরের আদ্-দ্বীন প্রিন্টার্সে কর্মরত।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বাড়ির ভাড়াটিয়া ও কাজের মহিলা সেলিনা বেগমকে। এছাড়া তার স্বামী রবিউল ইসলাম জনি এবং আয়েশা বেগম (স্বামী- ইনতাজুল হক)-কেও চুরিতে সহায়তার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর।: ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাদীর মেয়ে উম্মে ফজিলাতুন নেছা কাজের মহিলা সেলিনা বেগমের সামনেই আলমারির ভেতর কাপড়ের ভাঁজে একটি লাল শপিং ব্যাগে স্বর্ণালংকারগুলো রাখেন। ব্যাগে বিভিন্ন ওজনের মোট ১১ ভরি ৫০ আনা স্বর্ণ ছিল, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
স্বর্ণ রাখার পরপরই সেলিনা বেগম অনেকটা তড়িঘড়ি করে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর বাদীর পরিবার রাজশাহীতে বেড়াতে যান এবং ২৭ ডিসেম্বর ফিরে আসেন। ২৮ ডিসেম্বর থেকে সেলিনা আবারও কাজে যোগ দেন।
: গত ৪ জানুয়ারি সকালে আলমারি খুললে দেখা যায়, নির্দিষ্ট স্থানে রাখা ওই শপিং ব্যাগটি উধাও। এরপর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে, কাজের মহিলা অত্যন্ত কৌশলে আলমারি খুলে স্বর্ণালংকারগুলো চুরি করেছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পারিবারিকভাবে এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে মামলাটি নথিভুক্ত করার পর পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
কোতয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





















