০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ যশোর: থমকে গেছে জনজীবন, হৃদয়ে গভীর ক্ষত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৩১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৬৫

মা, মাটি ও মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন আপসহীন সংগ্রাম করা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে গভীর শোকে নুয়ে পড়েছে যশোর। আজ রাষ্ট্রীয় তিন দিনের শোকের প্রথম দিন। তবে এই শোক কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি ঘরে, সাধারণ মানুষের হৃদয়ের গভীরে।

বুধবার সকাল থেকেই যশোর শহরের চিত্র ছিল অন্যরকম। বড়বাজার, চাঁচড়া, এমএম আলী রোড, দড়াটানা ও আরএন রোডসহ ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে প্রতিদিনের চেনা কোলাহল নেই। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ এবং রাস্তায় মানুষের চলাচল অত্যন্ত সীমিত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতিও ছিল হাতেগোনা।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাস কিংবা অটোরিকশা স্ট্যান্ড—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বেগম জিয়ার স্মৃতি। সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে বিষণ্ণতা আর চাপা কষ্ট। দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই ও জীবনের শেষ সময়ে সওয়া শারীরিক যাতনা নিয়ে আফসোস করছেন অনেকেই।
* যশোর সদরের বারিনগর এলাকার চা বিক্রেতা মফিজুর রহমান (৬০) ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, “রাতে ভেবেছিলাম ঢাকা যাবো জানাজা পড়তে। কিন্তু সকালে বুকটা ফেটে আসছিল, বের হতে পারলাম না। উনি বড় সোজাসাপটা মানুষ ছিলেন, উনার মতো নেতা আর আসবে না।”
* ভ্যানচালক নাসির উদ্দিনের কণ্ঠে ঝরে পড়ল আক্ষেপ। তিনি বলেন, “রাজনীতি বুঝি না, কিন্তু উনাকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতাম। ওনার ওপর যে অন্যায় করা হইছে, তা না হলে হয়তো আরও কিছুদিন বাঁচতেন।”
* যশোর জেনারেল হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “এ দেশে অনেক নেতা দেখেছি, কিন্তু এমন ধৈর্য আর সহ্যশক্তি দেখিনি। খালেদা জিয়া নির্যাতন সহ্য করতে করতেই চলে গেলেন। দুনিয়ায় বিচার না হলেও আল্লাহর আদালতে এর বিচার হবে।”

যশোর থেকে অসংখ্য মানুষ ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকার জানাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। যারা যেতে পারেননি, তারা নিজ নিজ এলাকায় নীরবে চোখের জল ফেলছেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একজন ‘দেশমাতা’ হিসেবে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান কতটা গভীর ছিল, আজ যশোরের শান্ত ও স্তব্ধ পরিবেশই তার প্রমাণ দিচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

বড় আঁচড়ায় পঞ্চম দিনের গণসংযোগে ইমদাদুল হক ইমদাদ

খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ যশোর: থমকে গেছে জনজীবন, হৃদয়ে গভীর ক্ষত

আপডেট: ০৬:৩১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

মা, মাটি ও মানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন আপসহীন সংগ্রাম করা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে গভীর শোকে নুয়ে পড়েছে যশোর। আজ রাষ্ট্রীয় তিন দিনের শোকের প্রথম দিন। তবে এই শোক কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি ঘরে, সাধারণ মানুষের হৃদয়ের গভীরে।

বুধবার সকাল থেকেই যশোর শহরের চিত্র ছিল অন্যরকম। বড়বাজার, চাঁচড়া, এমএম আলী রোড, দড়াটানা ও আরএন রোডসহ ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে প্রতিদিনের চেনা কোলাহল নেই। বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ এবং রাস্তায় মানুষের চলাচল অত্যন্ত সীমিত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ব্যক্তিগত গাড়ির উপস্থিতিও ছিল হাতেগোনা।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাস কিংবা অটোরিকশা স্ট্যান্ড—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বেগম জিয়ার স্মৃতি। সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে বিষণ্ণতা আর চাপা কষ্ট। দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই ও জীবনের শেষ সময়ে সওয়া শারীরিক যাতনা নিয়ে আফসোস করছেন অনেকেই।
* যশোর সদরের বারিনগর এলাকার চা বিক্রেতা মফিজুর রহমান (৬০) ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, “রাতে ভেবেছিলাম ঢাকা যাবো জানাজা পড়তে। কিন্তু সকালে বুকটা ফেটে আসছিল, বের হতে পারলাম না। উনি বড় সোজাসাপটা মানুষ ছিলেন, উনার মতো নেতা আর আসবে না।”
* ভ্যানচালক নাসির উদ্দিনের কণ্ঠে ঝরে পড়ল আক্ষেপ। তিনি বলেন, “রাজনীতি বুঝি না, কিন্তু উনাকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতাম। ওনার ওপর যে অন্যায় করা হইছে, তা না হলে হয়তো আরও কিছুদিন বাঁচতেন।”
* যশোর জেনারেল হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী আব্দুল মালেক বলেন, “এ দেশে অনেক নেতা দেখেছি, কিন্তু এমন ধৈর্য আর সহ্যশক্তি দেখিনি। খালেদা জিয়া নির্যাতন সহ্য করতে করতেই চলে গেলেন। দুনিয়ায় বিচার না হলেও আল্লাহর আদালতে এর বিচার হবে।”

যশোর থেকে অসংখ্য মানুষ ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকার জানাজার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। যারা যেতে পারেননি, তারা নিজ নিজ এলাকায় নীরবে চোখের জল ফেলছেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একজন ‘দেশমাতা’ হিসেবে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান কতটা গভীর ছিল, আজ যশোরের শান্ত ও স্তব্ধ পরিবেশই তার প্রমাণ দিচ্ছে।