০১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি ও ডলার কেলেঙ্কারির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১২

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদকে ঘিরে বয়স ও অভিজ্ঞতার সনদ জালিয়াতি, নিয়োগে তথ্য গোপন এবং তেল আমদানির এলসি মূল্য পরিশোধে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকারি তদন্ত, আদালতে মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান নিয়ে জ্বালানি খাতে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে বিপিসিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়সসংক্রান্ত তথ্য গোপন এবং ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি চাকরি লাভ করেন। পাশাপাশি, দায়িত্ব পালনকালে তেল আমদানির লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) মূল্য পরিশোধে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের আদেশ, দুদকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৮২৪/২০২৬ বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। তবে মামলার নথি ও আদেশের সত্যতা যাচাই করে সমন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আদালতে মামলা দায়ের বা সমন জারি হওয়া নিজে থেকেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।

মামলার পরবর্তী শুনানি, আদালতে হাজিরার অবস্থা এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি থেকে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

## নিয়োগে বয়স গোপন ও অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০০৯ সালে বিপিসিতে নিয়োগের সময় নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করলেও মোরশেদ আজাদ প্রকৃত বয়সসংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছিলেন। একই সঙ্গে ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তাঁর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি, জন্মতারিখসংক্রান্ত সরকারি দলিল, অভিজ্ঞতার সনদ এবং নিয়োগ কমিটির কার্যবিবরণী পরীক্ষা করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, নিবন্ধন ও কর্ম-অভিজ্ঞতার সত্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন।

যদি তদন্তে নিয়োগের ক্ষেত্রে জাল সনদ বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে।

সনদ জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি বিপিসির তেল আমদানির এলসি মূল্য পরিশোধে শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি রয়েছে।

তবে কথিত অনিয়মের মোট আর্থিক পরিমাণ, কোন কোন এলসি লেনদেন প্রশ্নবিদ্ধ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং মোরশেদ আজাদের ব্যক্তিগত দায় কতটুকু—এসব বিষয়ে যাচাইযোগ্য নথি ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে এলসি খোলার অনুমোদন, ডলার বিনিময় হার, মূল্য পরিশোধের তারিখ, ব্যাংকিং নথি, সংশ্লিষ্ট হিসাবের বিবরণ এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। দুদকের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্তের অগ্রগতি জানা গেলে অভিযোগের প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি আরও স্পষ্ট হবে।

প্রদত্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে রয়েছে এবং দুদককে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা, সম্পদ ক্রোক এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব আইনি পদক্ষেপের প্রতিটি আলাদা প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত। তাই সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ, দুদকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি বা সম্পদ ক্রোকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন নয়।

আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা গেলে জনসাধারণের কাছে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার হবে।

অভিযোগগুলোর পরও মোরশেদ আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত না করায় বিপিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক ইউনিয়ন তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং চাকরি থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

তবে ইউনিয়নের ঘোষণার তারিখ, সিদ্ধান্তের লিখিত কপি এবং দাবির বিষয়ে বিপিসি কর্তৃপক্ষের অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদক্ষেপ, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও জনসমক্ষে আসা জরুরি।

বিপিসি দেশের জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। ফলে এর আর্থিক লেনদেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথির যাচাই এবং দায় নির্ধারণের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করাও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আদালতের নথি এবং দুদকের তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আইনি পরিণতি নির্ধারিত হবে প্রমাণ, তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

সর্বাধিক পঠিত

পাটগ্রাম সীমান্তে পাথর শ্রমিকদের লক্ষ্য করে বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের অভিযোগ

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি ও ডলার কেলেঙ্কারির অভিযোগ

আপডেট: ১০:২০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদকে ঘিরে বয়স ও অভিজ্ঞতার সনদ জালিয়াতি, নিয়োগে তথ্য গোপন এবং তেল আমদানির এলসি মূল্য পরিশোধে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরকারি তদন্ত, আদালতে মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান নিয়ে জ্বালানি খাতে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে বিপিসিতে নিয়োগ পাওয়ার সময় বয়সসংক্রান্ত তথ্য গোপন এবং ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি চাকরি লাভ করেন। পাশাপাশি, দায়িত্ব পালনকালে তেল আমদানির লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) মূল্য পরিশোধে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের আদেশ, দুদকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও সনদ জালিয়াতির অভিযোগে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৮২৪/২০২৬ বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। তবে মামলার নথি ও আদেশের সত্যতা যাচাই করে সমন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আদালতে মামলা দায়ের বা সমন জারি হওয়া নিজে থেকেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়।

মামলার পরবর্তী শুনানি, আদালতে হাজিরার অবস্থা এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি থেকে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

## নিয়োগে বয়স গোপন ও অভিজ্ঞতার সনদ নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০০৯ সালে বিপিসিতে নিয়োগের সময় নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করলেও মোরশেদ আজাদ প্রকৃত বয়সসংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছিলেন। একই সঙ্গে ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তাঁর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি, জন্মতারিখসংক্রান্ত সরকারি দলিল, অভিজ্ঞতার সনদ এবং নিয়োগ কমিটির কার্যবিবরণী পরীক্ষা করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, নিবন্ধন ও কর্ম-অভিজ্ঞতার সত্যতাও যাচাই করা প্রয়োজন।

যদি তদন্তে নিয়োগের ক্ষেত্রে জাল সনদ বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রচলিত আইন ও চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্ন উঠতে পারে।

সনদ জালিয়াতির অভিযোগের পাশাপাশি বিপিসির তেল আমদানির এলসি মূল্য পরিশোধে শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি রয়েছে।

তবে কথিত অনিয়মের মোট আর্থিক পরিমাণ, কোন কোন এলসি লেনদেন প্রশ্নবিদ্ধ, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং মোরশেদ আজাদের ব্যক্তিগত দায় কতটুকু—এসব বিষয়ে যাচাইযোগ্য নথি ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এ ক্ষেত্রে এলসি খোলার অনুমোদন, ডলার বিনিময় হার, মূল্য পরিশোধের তারিখ, ব্যাংকিং নথি, সংশ্লিষ্ট হিসাবের বিবরণ এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। দুদকের আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান বা তদন্তের অগ্রগতি জানা গেলে অভিযোগের প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি আরও স্পষ্ট হবে।

প্রদত্ত তথ্যে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে রয়েছে এবং দুদককে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা, সম্পদ ক্রোক এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব আইনি পদক্ষেপের প্রতিটি আলাদা প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত। তাই সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ, দুদকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই ছাড়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি বা সম্পদ ক্রোকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন নয়।

আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা গেলে জনসাধারণের কাছে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার হবে।

অভিযোগগুলোর পরও মোরশেদ আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত না করায় বিপিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক ইউনিয়ন তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে এবং চাকরি থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

তবে ইউনিয়নের ঘোষণার তারিখ, সিদ্ধান্তের লিখিত কপি এবং দাবির বিষয়ে বিপিসি কর্তৃপক্ষের অবস্থান যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদক্ষেপ, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যও জনসমক্ষে আসা জরুরি।

বিপিসি দেশের জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। ফলে এর আর্থিক লেনদেন, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোরশেদ আজাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথির যাচাই এবং দায় নির্ধারণের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করাও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আদালতের নথি এবং দুদকের তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আইনি পরিণতি নির্ধারিত হবে প্রমাণ, তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।