১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধ না হলে ডিসেম্বরের পর রেমিট্যান্স বন্ধের হুঁশিয়ারি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১০

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হয়রানি, অসম্মানজনক আচরণ ও শারীরিক-মানসিক হেনস্তা বন্ধ না হলে আগামী ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রবাসী নাগরিক সমাজের যুক্তরাষ্ট্র শাখা। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সংগঠনটির নেতারা এ ঘোষণা দেন।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নোয়াখালী সমিতির সামনে প্রধান সড়কে এ প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই অবদান অব্যাহত রাখতে বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসীদের পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে হয়রানি ও লুটপাটের অভিযোগ বন্ধ করে প্রবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে বিভিন্ন দলীয় ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরে এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে প্রবাসীরা কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে, দেশে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। রাষ্ট্রের যেকোনো পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে প্রবাসীরা বিদেশে থেকেও তার প্রতিবাদ করবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সমাবেশে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে হেনস্তা করার অভিযোগের নিন্দা জানান প্রবাসী নেতারা। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া নরসিংদীতে এক প্রবাসীকে কটূক্তি ও অসম্মান করার অভিযোগেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মার্কিন ভিসা ও গ্রিনকার্ড বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবিও তোলেন বক্তারা। তবে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জেএসএফের চেয়ারম্যান হাজী আনোয়ার হোসেন এবং প্রবাসী নাগরিক সমাজের নেতা মো. শহিদুল্লাহ, মাওলানা জাকির হোসেন, আশরাফুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, মো. কাশেম, আবদুল হুদা, ইসমাইল হোসেন, মিজানুর রহমান ও দীন মুহাম্মদ।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের অবদান শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ক্ষোভ নিরসনে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেবার মান উন্নত করতে হবে। একই সঙ্গে হয়রানির অভিযোগ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রবাসীদের জন্য অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তাঁরা।

তাঁদের মতে, প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রেমিট্যান্স বন্ধের হুঁশিয়ারি দেশের অর্থনীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পঞ্চম দিনের মতো গণসংযোগে মেয়র প্রার্থী ইমদাদুল হক ইমদাদ

বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধ না হলে ডিসেম্বরের পর রেমিট্যান্স বন্ধের হুঁশিয়ারি

আপডেট: ০৯:০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হয়রানি, অসম্মানজনক আচরণ ও শারীরিক-মানসিক হেনস্তা বন্ধ না হলে আগামী ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো স্থগিতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রবাসী নাগরিক সমাজের যুক্তরাষ্ট্র শাখা। নিউইয়র্কে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সংগঠনটির নেতারা এ ঘোষণা দেন।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কঠোর পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে প্রবাসীদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নোয়াখালী সমিতির সামনে প্রধান সড়কে এ প্রতিবাদ ও সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। এই অবদান অব্যাহত রাখতে বিমানবন্দরগুলোতে প্রবাসীদের পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরে হয়রানি ও লুটপাটের অভিযোগ বন্ধ করে প্রবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে বিভিন্ন দলীয় ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরে এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে প্রবাসীরা কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন। অন্যদিকে, দেশে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। রাষ্ট্রের যেকোনো পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে প্রবাসীরা বিদেশে থেকেও তার প্রতিবাদ করবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সমাবেশে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে হেনস্তা করার অভিযোগের নিন্দা জানান প্রবাসী নেতারা। তাঁদের দাবি, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ছাড়া নরসিংদীতে এক প্রবাসীকে কটূক্তি ও অসম্মান করার অভিযোগেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মার্কিন ভিসা ও গ্রিনকার্ড বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবিও তোলেন বক্তারা। তবে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়া ও প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষার দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন জেএসএফের চেয়ারম্যান হাজী আনোয়ার হোসেন এবং প্রবাসী নাগরিক সমাজের নেতা মো. শহিদুল্লাহ, মাওলানা জাকির হোসেন, আশরাফুল হাসান, সাইফুল ইসলাম, মো. কাশেম, আবদুল হুদা, ইসমাইল হোসেন, মিজানুর রহমান ও দীন মুহাম্মদ।

বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের অবদান শুধু বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাঁদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও ক্ষোভ নিরসনে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেবার মান উন্নত করতে হবে। একই সঙ্গে হয়রানির অভিযোগ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রবাসীদের জন্য অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তাঁরা।

তাঁদের মতে, প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে রেমিট্যান্স বন্ধের হুঁশিয়ারি দেশের অর্থনীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।