১২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পিরোজপুরে ভিজিএফের চাল নিলেন ফিশিং বোটের মালিক ইউপি সদস্য, উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৩

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ইউনিয়নের ১ নম্বর চরবলেশ্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও চণ্ডীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. দুলাল ফকির। তিনি দুটি সাগরগামী ফিশিং বোটের মালিক হয়েও জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১২ অক্টোবর ইউনিয়নের ৬৭৯ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন সরকারি খাদ্যসহায়তার চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় উপকারভোগীদের তালিকার ৩৮ নম্বর ক্রমিকে দুলাল ফকিরের নাম দেখা যায়। তিনি ওই তালিকার বিপরীতে বরাদ্দ করা চাল উত্তোলন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নে অনেক প্রকৃত ও দরিদ্র জেলে সরকারি সহায়তার কার্ড না পেলেও আর্থিকভাবে সচ্ছল একজন জনপ্রতিনিধির নামে জেলে কার্ড থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরবলেশ্বর গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন ফকিরের ছেলে দুলাল ফকির এলাকায় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি দুটি সাগরগামী ফিশিং বোট পরিচালনা করেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তিনি এলাকায় জনসংযোগ চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সরকারি চাল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকির বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি একজন মহাজন এবং সাগরে মাছ ধরার দুটি ফিশিং বোটের মালিক, এ কথা সত্যি। তবে আমার মতে, মহাজন ও জেলে—উভয়েরই সরকারি জেলে কার্ড পাওয়ার যৌক্তিক অধিকার রয়েছে। আমি নিজ নামে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে পরে অন্য এক সাধারণ জেলেকে দিয়ে দিয়েছি।”

তবে তাঁর নামে জেলে কার্ড বরাদ্দের যোগ্যতা এবং চাল বিতরণের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ রহমান বলেন, একজন নির্বাচিত ইউপি সদস্য বা ফিশিং বোট মালিকের নামে জেলে কার্ড বরাদ্দ থাকার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। জেলেদের তালিকা পর্যালোচনা ও আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার সময় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যসহায়তা দিয়ে থাকে। এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া উপযুক্ত জেলে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো।

এ অবস্থায় জেলে কার্ডের তালিকায় কারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রকৃত যোগ্যতা কী এবং বরাদ্দ করা চাল যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কার্ডধারীদের তথ্য ও আর্থিক অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত দরিদ্র ও কর্মহীন জেলেরা যাতে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল বা অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইউপি সদস্যের কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা, চাল বিতরণের প্রক্রিয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বাধিক পঠিত

নাভারণে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান: ২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ

পিরোজপুরে ভিজিএফের চাল নিলেন ফিশিং বোটের মালিক ইউপি সদস্য, উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ১০:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ইউনিয়নের ১ নম্বর চরবলেশ্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও চণ্ডীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. দুলাল ফকির। তিনি দুটি সাগরগামী ফিশিং বোটের মালিক হয়েও জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা ভিজিএফের চাল উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১২ অক্টোবর ইউনিয়নের ৬৭৯ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে মা ইলিশ সংরক্ষণকালীন সরকারি খাদ্যসহায়তার চাল বিতরণ করা হয়। এ সময় উপকারভোগীদের তালিকার ৩৮ নম্বর ক্রমিকে দুলাল ফকিরের নাম দেখা যায়। তিনি ওই তালিকার বিপরীতে বরাদ্দ করা চাল উত্তোলন করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নে অনেক প্রকৃত ও দরিদ্র জেলে সরকারি সহায়তার কার্ড না পেলেও আর্থিকভাবে সচ্ছল একজন জনপ্রতিনিধির নামে জেলে কার্ড থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরবলেশ্বর গ্রামের মৃত খবির উদ্দিন ফকিরের ছেলে দুলাল ফকির এলাকায় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি দুটি সাগরগামী ফিশিং বোট পরিচালনা করেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তিনি এলাকায় জনসংযোগ চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সরকারি চাল উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য মো. দুলাল ফকির বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি একজন মহাজন এবং সাগরে মাছ ধরার দুটি ফিশিং বোটের মালিক, এ কথা সত্যি। তবে আমার মতে, মহাজন ও জেলে—উভয়েরই সরকারি জেলে কার্ড পাওয়ার যৌক্তিক অধিকার রয়েছে। আমি নিজ নামে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে পরে অন্য এক সাধারণ জেলেকে দিয়ে দিয়েছি।”

তবে তাঁর নামে জেলে কার্ড বরাদ্দের যোগ্যতা এবং চাল বিতরণের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জিয়ানগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ রহমান বলেন, একজন নির্বাচিত ইউপি সদস্য বা ফিশিং বোট মালিকের নামে জেলে কার্ড বরাদ্দ থাকার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। জেলেদের তালিকা পর্যালোচনা ও আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই ছাড়া এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

মা ইলিশ সংরক্ষণে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার সময় কর্মহীন হয়ে পড়া জেলেদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যসহায়তা দিয়ে থাকে। এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া উপযুক্ত জেলে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো।

এ অবস্থায় জেলে কার্ডের তালিকায় কারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রকৃত যোগ্যতা কী এবং বরাদ্দ করা চাল যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কার্ডধারীদের তথ্য ও আর্থিক অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত দরিদ্র ও কর্মহীন জেলেরা যাতে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল বা অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ইউপি সদস্যের কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা, চাল বিতরণের প্রক্রিয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই গুরুত্বপূর্ণ।