১১:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

দরপত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ হাসানকে ঘিরে তদন্তের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:২৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৫

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন, বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ, বড় প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কথিত প্রভাব বিস্তার এবং তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস নিয়ে এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে সরকারি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার, প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আর্থিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

### গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন

কাজী মো. ফিরোজ হাসানের দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ ও হস্তান্তরের সময়কাল, পদোন্নতি, বদলি এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনের নথি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ করে ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা বজায় ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হচ্ছে।

### বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণের ব্যয় যাচাইয়ের দাবি

কর্মকর্তার বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এসব সফরের অনুমোদন, মনোনয়ন, অর্থায়নের উৎস, সরকারি ব্যয়ের হিসাব এবং সফর শেষে দাখিল করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীরা।

তবে বিদেশ সফর বা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ নিজেই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। সরকারি অর্থ ব্যয় হয়ে থাকলে তা বিধি অনুযায়ী হয়েছে কি না এবং এসব সফরের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রমে কী ধরনের সুফল এসেছে, তা নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা যেতে পারে।

### বড় প্রকল্পের দরপত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বড় প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ ক্ষেত্রে এনডিই (NDE) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথিত যোগসূত্র এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ও দরপত্রের শর্ত নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার শর্ত, মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধের তথ্য এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। দরপত্রের শর্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করতে হবে।

তবে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ থাকা কিংবা একই প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করাই অনিয়মের প্রমাণ নয়। এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।

কাজী মো. ফিরোজ হাসান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তবে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা কিংবা আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নথি নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আইনসম্মত তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্য যাচাই জরুরি।

এ ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকলে তার প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎসও আইন অনুযায়ী যাচাই করা সম্ভব।

তবে পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকা নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। সংশ্লিষ্ট সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কয়েকটি বিষয় যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

1\. কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য পরীক্ষা।

2\. আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী ও প্রাসঙ্গিক আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা।

3\. বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণের অনুমোদন, মনোনয়ন এবং সরকারি ব্যয়ের হিসাব যাচাই।

4\. বড় প্রকল্পের দরপত্র, মূল্যায়ন, কার্যাদেশ ও বিল পরিশোধে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা।

5\. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পর্যালোচনা।

6\. এ বিষয়ে আগে কোনো বিভাগীয় তদন্ত, নিরীক্ষা বা আইনগত কার্যক্রম হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি ও ফলাফল যাচাই।

তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া না গেলে তা স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কাজী মো. ফিরোজ হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে প্রতিবেদক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যাখ্যা, সরকারি নথি এবং কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে সেগুলো যাচাই করে প্রতিবেদনের তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

সরকারি দায়িত্ব পালন, প্রকল্পের দরপত্র এবং সম্পদের উৎস নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে দুদক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিরীক্ষা ও তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা প্রয়োজনীয় হতে পারে।

প্রামাণ্য নথি, আর্থিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত সম্পন্ন হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা পরিষ্কারভাবে জানানোই হওয়া উচিত জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতা ও সুশাসনের লক্ষ্য।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে যুবককে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল, স্বর্ণের চেন ও টাকা লুটের অভিযোগ

দরপত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফিরোজ হাসানকে ঘিরে তদন্তের দাবি

আপডেট: ০৮:২৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসানকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন, বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ, বড় প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কথিত প্রভাব বিস্তার এবং তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস নিয়ে এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর মধ্যে সরকারি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার, প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্যের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, আর্থিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

### গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন

কাজী মো. ফিরোজ হাসানের দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ ও হস্তান্তরের সময়কাল, পদোন্নতি, বদলি এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনের নথি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষ করে ক্রয় ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, দায়িত্ব বণ্টনে স্বচ্ছতা বজায় ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হচ্ছে।

### বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণের ব্যয় যাচাইয়ের দাবি

কর্মকর্তার বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এসব সফরের অনুমোদন, মনোনয়ন, অর্থায়নের উৎস, সরকারি ব্যয়ের হিসাব এবং সফর শেষে দাখিল করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারীরা।

তবে বিদেশ সফর বা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ নিজেই কোনো অনিয়মের প্রমাণ নয়। সরকারি অর্থ ব্যয় হয়ে থাকলে তা বিধি অনুযায়ী হয়েছে কি না এবং এসব সফরের মাধ্যমে দাপ্তরিক কার্যক্রমে কী ধরনের সুফল এসেছে, তা নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা যেতে পারে।

### বড় প্রকল্পের দরপত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বড় প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ ক্ষেত্রে এনডিই (NDE) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথিত যোগসূত্র এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ও দরপত্রের শর্ত নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতার শর্ত, মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী, কার্যাদেশ, বিল পরিশোধের তথ্য এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। দরপত্রের শর্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করতে হবে।

তবে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ থাকা কিংবা একই প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করাই অনিয়মের প্রমাণ নয়। এ ধরনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।

কাজী মো. ফিরোজ হাসান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস ও বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তবে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা কিংবা আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত নথি নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আইনসম্মত তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্য যাচাই জরুরি।

এ ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী, জমি ও ফ্ল্যাটের দলিল, গাড়ির মালিকানা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা যেতে পারে। পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকলে তার প্রকৃত মালিকানা ও অর্থের উৎসও আইন অনুযায়ী যাচাই করা সম্ভব।

তবে পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকা নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। সংশ্লিষ্ট সম্পদের মালিকানা, অর্থের উৎস এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে।

উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কয়েকটি বিষয় যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে—

1\. কর্মকর্তা ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের উৎস এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য পরীক্ষা।

2\. আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী ও প্রাসঙ্গিক আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা।

3\. বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণের অনুমোদন, মনোনয়ন এবং সরকারি ব্যয়ের হিসাব যাচাই।

4\. বড় প্রকল্পের দরপত্র, মূল্যায়ন, কার্যাদেশ ও বিল পরিশোধে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা।

5\. প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পর্যালোচনা।

6\. এ বিষয়ে আগে কোনো বিভাগীয় তদন্ত, নিরীক্ষা বা আইনগত কার্যক্রম হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি ও ফলাফল যাচাই।

তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া না গেলে তা স্পষ্টভাবে জানানো জরুরি। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কাজী মো. ফিরোজ হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে প্রতিবেদক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ব্যাখ্যা, সরকারি নথি এবং কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে সেগুলো যাচাই করে প্রতিবেদনের তথ্য হালনাগাদ করা প্রয়োজন।

সরকারি দায়িত্ব পালন, প্রকল্পের দরপত্র এবং সম্পদের উৎস নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে দুদক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিরীক্ষা ও তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা প্রয়োজনীয় হতে পারে।

প্রামাণ্য নথি, আর্থিক তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত সম্পন্ন হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা পরিষ্কারভাবে জানানোই হওয়া উচিত জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতা ও সুশাসনের লক্ষ্য।