০২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিসিআইসিতে শরীফুল আলমকে ঘিরে সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৭

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে (বিসিআইসি) নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী প্রধান (সিওপি) আ ন ম শরীফুল আলম। তাঁকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে ওঠার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, এর ফলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিসিআইসির প্রশাসন, বিপণন, হিসাব বিভাগ এবং বিভিন্ন কারখানার ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে একটি গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে শরীফুল আলমের প্রভাব রয়েছে। প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত বা উপযুক্ত বলে বিবেচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

টিএসপিসিএল ও ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে এ টি এম বাকী ও মঈনুল হোসেনের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একইভাবে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিসিআইসির পরিচালক (কারিগরি ও প্রকৌশল) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পেশাগত যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পদায়নের পেছনে শরীফুল আলমের ভূমিকা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও পদায়নের নথি এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

বিসিআইসির বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন মহল থেকে আসা তদবিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় যুক্ত করে সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সিইউএফএলে কর্মরত আরিফ নামের এক কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

বিসিআইসির বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তদন্তের ফলাফল কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। আবার কিছু কমিটি গঠনে পছন্দের কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরাম গঠন নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. মনিরুজ্জামান, সদস্য হিসেবে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. সাজেদুল আলম এবং সদস্যসচিব হিসেবে অতিরিক্ত প্রধান হিসাবরক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে শরীফুল আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং কর্মচারী প্রধান পদে তাঁর নিয়োগ ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের প্রকাশনা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় তাঁর পদপ্রাপ্তিতে ভূমিকা রেখেছিল।

এ ছাড়া তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা, পূর্ববর্তী কর্ম-অভিজ্ঞতার সনদ এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও শরীফুল আলমের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা আরও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, শরীফুল আলমের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে—এমন কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি, প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন। পাশাপাশি কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হলে অনিয়মের তথ্য সামনে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগ যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা জরুরি।

বিসিআইসি একটি ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় কারিগরি ও প্রকৌশলসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, যোগ্য প্রকৌশলীদের যথাযথ দায়িত্ব না দিয়ে অন্য বিভাগের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে পদায়নের নীতিমালা, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্ম-অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিসিআইসিকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, তদন্ত কমিটি গঠন এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অভিযোগের মুখে থাকা আ ন ম শরীফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ, প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা জরুরি। এতে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি জোরদার হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্র্যাক ব্যাংক কর্মকর্তা ও মেয়ের মৃত্যু, স্ত্রী গুরুতর আহত

বিসিআইসিতে শরীফুল আলমকে ঘিরে সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ০৯:৪১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনে (বিসিআইসি) নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী প্রধান (সিওপি) আ ন ম শরীফুল আলম। তাঁকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী গড়ে ওঠার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, এর ফলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিসিআইসির প্রশাসন, বিপণন, হিসাব বিভাগ এবং বিভিন্ন কারখানার ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে একটি গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে শরীফুল আলমের প্রভাব রয়েছে। প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত বা উপযুক্ত বলে বিবেচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রশাসনিক বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

টিএসপিসিএল ও ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে এ টি এম বাকী ও মঈনুল হোসেনের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একইভাবে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিসিআইসির পরিচালক (কারিগরি ও প্রকৌশল) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পেশাগত যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব পদায়নের পেছনে শরীফুল আলমের ভূমিকা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও পদায়নের নথি এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

বিসিআইসির বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বিভিন্ন মহল থেকে আসা তদবিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় যুক্ত করে সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সিইউএফএলে কর্মরত আরিফ নামের এক কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আর্থিক লেনদেনের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

বিসিআইসির বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তদন্তের ফলাফল কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। আবার কিছু কমিটি গঠনে পছন্দের কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী অফিসার্স ফোরাম গঠন নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. মনিরুজ্জামান, সদস্য হিসেবে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. সাজেদুল আলম এবং সদস্যসচিব হিসেবে অতিরিক্ত প্রধান হিসাবরক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে শরীফুল আলমের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং কর্মচারী প্রধান পদে তাঁর নিয়োগ ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে। ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের প্রকাশনা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় তাঁর পদপ্রাপ্তিতে ভূমিকা রেখেছিল।

এ ছাড়া তাঁর নিয়োগের যোগ্যতা, পূর্ববর্তী কর্ম-অভিজ্ঞতার সনদ এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা নিয়েও প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও শরীফুল আলমের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা আরও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, শরীফুল আলমের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে—এমন কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী বদলি, প্রশাসনিক চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন। পাশাপাশি কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হলে অনিয়মের তথ্য সামনে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এসব অভিযোগ যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক নথি পর্যালোচনা জরুরি।

বিসিআইসি একটি ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান হওয়ায় কারিগরি ও প্রকৌশলসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, যোগ্য প্রকৌশলীদের যথাযথ দায়িত্ব না দিয়ে অন্য বিভাগের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে পদায়নের নীতিমালা, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্ম-অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বিসিআইসিকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। নিয়োগ, বদলি, পদায়ন, তদন্ত কমিটি গঠন এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে অভিযোগের মুখে থাকা আ ন ম শরীফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ, প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা জরুরি। এতে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি জোরদার হতে পারে।