১২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

যাত্রাবাড়ীর আবাসিক হোটেলে অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগ, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৯

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে নারী পাচার, মাদক কারবার, জিম্মি ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব বিস্তার করতে সাজ্জাদ নিজেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের দাবি, এই পরিচয় ব্যবহার করে যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করতেন তিনি।

অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেল প্রজাপতি, হোটেল প্রাইম, হোটেল স্বাগতম, হোটেল রংধনু, হোটেল প্যারাডাইস, হোটেল হেভেন, হোটেল প্যালেস, হোটেল মুন, হোটেল রোজভিউ ও ফেইস ইনসহ কয়েকটি আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানায় সাজ্জাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব হোটেলে চাকরি কিংবা অন্যান্য সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় নারীদের নিয়ে আসা হতো। পরে তাদের জিম্মি করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর এক নারী অভিযোগ করেন, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে গার্মেন্টসে কাজের সন্ধানে এসে সাজ্জাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে কৌশলে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে প্রায় তিন মাস আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, ওই সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে নিরাপত্তার জন্য সৌদি আরবে চলে যান বলেও জানান তিনি।

সেলিম নামে আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, সাজ্জাদের সঙ্গে জড়িয়ে তার জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রায় এক বছর আগে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সেলিমের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ করার আগেই সাজ্জাদকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই মাছের আড়ত এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিন দিন তাকে অনাহারে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাজ্জাদের পাশাপাশি আল-আমিন, তারামিয়া ও গণিসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রাবাড়ীর এসব আবাসিক হোটেলকেন্দ্রিক অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা ও বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া হোটেলগুলো থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে এবং স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে মানব পাচার, বেআইনিভাবে আটক, মারধর এবং সরকারি কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের মতো অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোর ট্রেড লাইসেন্স, সিসিটিভি ফুটেজ, আর্থিক লেনদেন ও মালিকানার নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা উদঘাটন করা সম্ভব হতে পারে।

তবে সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এবং অভিযোগে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বাধিক পঠিত

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আবু সাঈদের বাড়িতে বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান লিটন

যাত্রাবাড়ীর আবাসিক হোটেলে অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগ, সাজ্জাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

আপডেট: ১১:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কয়েকটি আবাসিক হোটেলকে কেন্দ্র করে নারী পাচার, মাদক কারবার, জিম্মি ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব বিস্তার করতে সাজ্জাদ নিজেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য হিসেবে পরিচয় দিতেন। স্থানীয়দের দাবি, এই পরিচয় ব্যবহার করে যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করতেন তিনি।

অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, হোটেল প্রজাপতি, হোটেল প্রাইম, হোটেল স্বাগতম, হোটেল রংধনু, হোটেল প্যারাডাইস, হোটেল হেভেন, হোটেল প্যালেস, হোটেল মুন, হোটেল রোজভিউ ও ফেইস ইনসহ কয়েকটি আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপনা ও মালিকানায় সাজ্জাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব হোটেলে চাকরি কিংবা অন্যান্য সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় নারীদের নিয়ে আসা হতো। পরে তাদের জিম্মি করে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর এক নারী অভিযোগ করেন, পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে গার্মেন্টসে কাজের সন্ধানে এসে সাজ্জাদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে কৌশলে তাকে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে প্রায় তিন মাস আটকে রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার অভিযোগ, ওই সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে নিরাপত্তার জন্য সৌদি আরবে চলে যান বলেও জানান তিনি।

সেলিম নামে আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, সাজ্জাদের সঙ্গে জড়িয়ে তার জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রায় এক বছর আগে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সেলিমের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ করার আগেই সাজ্জাদকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। ওই রাতেই মাছের আড়ত এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিন দিন তাকে অনাহারে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাজ্জাদের পাশাপাশি আল-আমিন, তারামিয়া ও গণিসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি যাত্রাবাড়ীর এসব আবাসিক হোটেলকেন্দ্রিক অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা ও বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া হোটেলগুলো থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে এবং স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে মানব পাচার, বেআইনিভাবে আটক, মারধর এবং সরকারি কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের মতো অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলোর ট্রেড লাইসেন্স, সিসিটিভি ফুটেজ, আর্থিক লেনদেন ও মালিকানার নথি যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা উদঘাটন করা সম্ভব হতে পারে।

তবে সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ এবং অভিযোগে উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।