সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের করের টাকায় বেতন পান উল্লেখ করে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর কেআইবি (কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ) মিলনায়তনে ‘শিশুশ্রম নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও মন্ত্রীদের সবসময় জবাবদিহির আওতায় আনা হলেও সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিয়ে একইভাবে আলোচনা হয় না। অথচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের করের অর্থ থেকে বেতন পান। তাই তাদের দায়িত্ব ও কর্মকাণ্ডের জন্যও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য সাধারণত পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জবাবদিহি থাকে। অন্যদিকে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা চাকরিজীবনের প্রতিটি দিন দায়িত্ব পালন করেন। ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির কাঠামো কতটা কার্যকর, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
শিশুশ্রম নিরসনের বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার বর্তমান সরকারের প্রধান নির্বাহীর বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পথশিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সময় কাটানো ও তাদের উন্নত জীবনের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত না করে শিশুর কল্যাণে কাজে লাগানো উচিত।
জুলাই অভ্যুত্থানে শিশুদের হতাহতের প্রসঙ্গ তুলে কায়সার কামাল বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ শিশু। সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ হওয়ায় শিশুরা বিভিন্ন সংকটে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিশুদের ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনাকে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সবার আগে প্রয়োজন ব্যাপক গণসচেতনতা।




















