বেনাপোল প্রতিনিধি:
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর চেকপোস্ট কাস্টমসে সদ্য যোগদানকারী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট যাত্রীদের চরম হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক এই চেকপোস্টের স্ক্যানিং পয়েন্টে মাত্র দুদিন আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের নানাভাবে ভোগান্তিতে ফেলছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
বিশেষ করে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরা অসুস্থ পাসপোর্ট যাত্রীরা তাঁর প্রধান ল্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাস্টমস স্ক্যানারে ব্যাগেজ পরীার পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই তিনি যাত্রীদের ব্যাগ টেনে ধরে টেবিলে মালামাল ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ঢেলে দিচ্ছেন। স্ক্যানিং উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে যাত্রীদের অবান্তর ও ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে মানসিক নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এমনকি শারীরিক সামর্থ্যহীন বা অসুস্থ যাত্রীদের জিনিসপত্র পুনরায় ব্যাগে ঢোকানোর ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা না করে, তাঁদের দিয়েই জোর করে ব্যাগ গুছিয়ে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা অসুস্থ পাসপোর্ট যাত্রী নুর ইসলাম নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কাস্টমস স্ক্যানিং পার হওয়ার সময় এআরও মিজানুর রহমান হঠাৎ আমার ব্যাগ টেনে ধরেন। এরপর এক ঘণ্টা আটকে রেখে একের পর এক অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকেন কেন ভারতে চিকিৎসা করাতে গেলাম, এ দেশে কি চিকিৎসা হয় না, অহেতুক অন্য দেশে টাকা ঢালার কী দরকার ইত্যাদি। আমার মতো আরও অনেক অসুস্থ ও সাধারণ যাত্রীকে তিনি একইভাবে হেনস্তা করছেন।”
অভিযোগ রয়েছে, স্ক্যানিং পয়েন্টে উক্ত কর্মকর্তার এমন অপেশাদার আচরণ ও হয়রানি দেখে দায়িত্ব প্রাপ্ত কাস্টমস সিপাহিদেরও হাসাহাসি করতে দেখা যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, উক্ত কর্মকর্তা যে কর্মস্থলেই যান, সেখানেই জটিলতা ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তাঁর এমন অপ্রীতিযোগ আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কারণে দপ্তর ও সহকর্মীদের মাঝেও অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া পরিচয় গোপন রাখার শর্তে আরও বহু যাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানি ও মৌখিক লাঞ্ছনার একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন।
ঘটনার সত্যতা জানতে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চেকপোস্ট কাস্টমসে সরজমিনে গিয়ে উক্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আন্তর্জাতিক এই সীমান্ত পয়েন্টে অসুস্থ ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং কাস্টমসের ভাবমূর্তি রায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে দ্রুত হস্তপে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পাসপোর্ট যাত্রীরা।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক কাস্টমস সিপাই বলেন তার আচারনে তাকে কাস্টমস ক্যানসার মিজান বলে ডাকে। সে যে অঞ্চলে চাকুরী করতে যায় সেই অঞ্চলে তার আচারন একই রকম বলে তাকে সবাই ক্যানসার মিজান বলেন।
















