১০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঝিকরগাছায় নারীকে পিটিয়ে চোখ নষ্টের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০১

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া ইউনিয়নের খালসিপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে পারভিনা বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের পাশাপাশি একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বর্তমানে ওই চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন পারভিনা।

এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

পারভিনা বেগমের অভিযোগ, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে হাসান, কাওছার মোড়ল, জাকির মোড়ল, মীম খাতুন ও হোসনেয়ারা খাতুন তার ওপর হামলা চালান।

তার দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন।

পারভিনা বলেন, হামলার সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।

পারভিনা বেগমের দাবি, হামলার পর তার চোখের সমস্যা ক্রমেই গুরুতর হয়েছে। বর্তমানে ওই চোখে তিনি কোনো কিছু দেখতে পাচ্ছেন না।

শনিবার যশোরে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে তাকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পারভিনা বলেন, ‘আমি হামলার পর থেকেই চোখে প্রচণ্ড সমস্যায় ভুগছি। এখন ওই চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। চিকিৎসক দ্রুত ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চাই।’

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে দাবি তাদের।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওমর ফারুক।

তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কারও হয়ে কথা বলা বা মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান, কাওছার মোড়ল, জাকির মোড়ল, মীম খাতুন ও হোসনেয়ারা খাতুনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং আহত পারভিনা বেগমের চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় নারীকে পিটিয়ে চোখ নষ্টের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

ঝিকরগাছায় নারীকে পিটিয়ে চোখ নষ্টের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

আপডেট: ১০:১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া ইউনিয়নের খালসিপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে পারভিনা বেগম (৩৫) নামে এক নারীকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের পাশাপাশি একটি চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বর্তমানে ওই চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন পারভিনা।

এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন এবং বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

পারভিনা বেগমের অভিযোগ, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে হাসান, কাওছার মোড়ল, জাকির মোড়ল, মীম খাতুন ও হোসনেয়ারা খাতুন তার ওপর হামলা চালান।

তার দাবি, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন।

পারভিনা বলেন, হামলার সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।

পারভিনা বেগমের দাবি, হামলার পর তার চোখের সমস্যা ক্রমেই গুরুতর হয়েছে। বর্তমানে ওই চোখে তিনি কোনো কিছু দেখতে পাচ্ছেন না।

শনিবার যশোরে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে তাকে দ্রুত ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পারভিনা বলেন, ‘আমি হামলার পর থেকেই চোখে প্রচণ্ড সমস্যায় ভুগছি। এখন ওই চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। চিকিৎসক দ্রুত ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি এ ঘটনায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চাই।’

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তদন্ত কর্মকর্তা বিভিন্নভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে দাবি তাদের।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ওমর ফারুক।

তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কারও হয়ে কথা বলা বা মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হাসান, কাওছার মোড়ল, জাকির মোড়ল, মীম খাতুন ও হোসনেয়ারা খাতুনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং আহত পারভিনা বেগমের চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেছে।