১০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বামীর অর্থে পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরি, সাত মাস পর তালাক দেওয়ার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীর আর্থিক সহায়তায় পড়াশোনা ও কোচিং শেষে সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রায় সাত মাস পর তাকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার স্বামী সাইফুল ইসলাম (খোকন) বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

ঘটনাটি শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামকে ঘিরে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের বল্লার বাড়ির মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় চার মাস পর জীবিকার তাগিদে সাইফুল মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর কয়েক বছর দেশে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবন চলছিল বলে পরিবারের দাবি।

একপর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলে সাইফুল এতে সম্মতি দেন এবং তার পড়াশোনার খরচ বহন করতে শুরু করেন বলে জানান স্বজনরা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে এইচএসসি পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরে ঢাকায় কোচিং করার আগ্রহ প্রকাশ করলে সেখানেও প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেন সাইফুল।

সাইফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর সরকারি চাকরির প্রত্যাশায় প্রায় চার বছর ধরে তার পড়াশোনা, কোচিং এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তিনি বহন করেছেন। পরে জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি পেয়েছেন—এ খবর পেয়ে তিনি ও তার পরিবার আনন্দিত হন।

সাইফুলের দাবি, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সমিতির মাধ্যমে জমি বা প্লট কেনার জন্য এককালীন অর্থ ও মাসিক কিস্তিতে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়ে তাকে একটি আবেদনপত্রের কপি পাঠান জান্নাত। ওই কাগজে তাকে নমিনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

সাইফুল আরও বলেন, দেশে ফিরে আসার প্রস্তুতির কথা জানালে জান্নাত তাকে আরও কয়েক বছর বিদেশে থাকার পরামর্শ দেন। দেশে ফিরতে চাইলে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে আসার কথাও বলা হয় বলে তার দাবি।

পরবর্তী সময়ে জান্নাতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ কমে গেলে সাইফুলের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় বলে তিনি জানান। গত জুলাইয়ে স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তাকে তালাক দেন বলে সাইফুলের অভিযোগ।

এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গেলে তার বাবা মো. আনোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন জান্নাতের ছোট ভাই ফয়সাল।

ফয়সাল তালাকের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী বিদেশে থাকাকালে তার যথাযথ খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণেই তিনি তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে জান্নাতুল ফেরদৌসের পড়াশোনা, কোচিং এবং ঢাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যয় তার স্বামীর অর্থেই হয়েছে—এ বিষয়টি ফয়সাল স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, একই বাড়ির বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং জান্নাতের চাচা মো. শাহজাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিস্তারিত জানতে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ প্রতিবেদনে তার সরাসরি বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তালাকের আইনগত কারণ ও এ বিষয়ে কোনো মামলা বা আইনি কার্যক্রম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় নারীকে পিটিয়ে চোখ নষ্টের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

স্বামীর অর্থে পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরি, সাত মাস পর তালাক দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: ০৯:৪৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামীর আর্থিক সহায়তায় পড়াশোনা ও কোচিং শেষে সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রায় সাত মাস পর তাকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার স্বামী সাইফুল ইসলাম (খোকন) বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

ঘটনাটি শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের উনকিলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামকে ঘিরে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের বল্লার বাড়ির মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় চার মাস পর জীবিকার তাগিদে সাইফুল মালয়েশিয়ায় চলে যান। এরপর কয়েক বছর দেশে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবন চলছিল বলে পরিবারের দাবি।

একপর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করলে সাইফুল এতে সম্মতি দেন এবং তার পড়াশোনার খরচ বহন করতে শুরু করেন বলে জানান স্বজনরা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে এইচএসসি পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরে ঢাকায় কোচিং করার আগ্রহ প্রকাশ করলে সেখানেও প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেন সাইফুল।

সাইফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর সরকারি চাকরির প্রত্যাশায় প্রায় চার বছর ধরে তার পড়াশোনা, কোচিং এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ তিনি বহন করেছেন। পরে জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরি পেয়েছেন—এ খবর পেয়ে তিনি ও তার পরিবার আনন্দিত হন।

সাইফুলের দাবি, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সমিতির মাধ্যমে জমি বা প্লট কেনার জন্য এককালীন অর্থ ও মাসিক কিস্তিতে টাকা দেওয়ার কথা জানিয়ে তাকে একটি আবেদনপত্রের কপি পাঠান জান্নাত। ওই কাগজে তাকে নমিনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

সাইফুল আরও বলেন, দেশে ফিরে আসার প্রস্তুতির কথা জানালে জান্নাত তাকে আরও কয়েক বছর বিদেশে থাকার পরামর্শ দেন। দেশে ফিরতে চাইলে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে আসার কথাও বলা হয় বলে তার দাবি।

পরবর্তী সময়ে জান্নাতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ কমে গেলে সাইফুলের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় বলে তিনি জানান। গত জুলাইয়ে স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে জান্নাতুল ফেরদৌস তাকে তালাক দেন বলে সাইফুলের অভিযোগ।

এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের পরিবারের বক্তব্য জানতে তাদের বাড়িতে গেলে তার বাবা মো. আনোয়ার হোসেনকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন জান্নাতের ছোট ভাই ফয়সাল।

ফয়সাল তালাকের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বোনের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী বিদেশে থাকাকালে তার যথাযথ খোঁজখবর রাখতেন না। এ কারণেই তিনি তালাকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে জান্নাতুল ফেরদৌসের পড়াশোনা, কোচিং এবং ঢাকায় থাকা-খাওয়ার ব্যয় তার স্বামীর অর্থেই হয়েছে—এ বিষয়টি ফয়সাল স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, একই বাড়ির বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং জান্নাতের চাচা মো. শাহজাহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। বিস্তারিত জানতে জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ প্রতিবেদনে তার সরাসরি বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তালাকের আইনগত কারণ ও এ বিষয়ে কোনো মামলা বা আইনি কার্যক্রম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।