১২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক উপদেষ্টাদের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা। এমনকি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ও যুদ্ধ চলমান থাকতে পারে বলে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বুধবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। পরে এ বিষয়ে রয়টার্সও প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্পকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেন। তাদের মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করলে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে উপদেষ্টাদের এই আশঙ্কার সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের বেশ পার্থক্য রয়েছে। বুধবার ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে।

ইরান মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ দীর্ঘদিন মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা ইরানের নেই। ফলে দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা উঠে এসেছে। ইরান প্রতিরোধ অব্যাহত রাখলে সামরিক সংঘাত কয়েক মাসের মধ্যে শেষ না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। বুধবার তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনও সম্ভব।

তবে সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার সুযোগ রাখলেও কূটনীতিকে নিজের পছন্দের প্রধান পথ হিসেবে দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে ইরানকে চাপের মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতায় আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে।

এদিকে ট্রাম্পের দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রত্যাশার বিপরীতে তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তাকেই সামনে আনছে।

সর্বাধিক পঠিত

২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক উপদেষ্টাদের

২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পকে সতর্ক উপদেষ্টাদের

আপডেট: ১২:১৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কয়েকজন উপদেষ্টা। এমনকি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ও যুদ্ধ চলমান থাকতে পারে বলে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বুধবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। পরে এ বিষয়ে রয়টার্সও প্রতিবেদনটি উদ্ধৃত করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্পকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেন। তাদের মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করলে সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে উপদেষ্টাদের এই আশঙ্কার সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের বেশ পার্থক্য রয়েছে। বুধবার ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে।

ইরান মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত চাপ দীর্ঘদিন মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা ইরানের নেই। ফলে দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

অন্যদিকে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা উঠে এসেছে। ইরান প্রতিরোধ অব্যাহত রাখলে সামরিক সংঘাত কয়েক মাসের মধ্যে শেষ না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। বুধবার তিনি স্বীকার করেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এখনও সম্ভব।

তবে সামরিক চাপের পাশাপাশি আলোচনার সুযোগ রাখলেও কূটনীতিকে নিজের পছন্দের প্রধান পথ হিসেবে দেখছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে ইরানকে চাপের মাধ্যমে দ্রুত সমঝোতায় আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে।

এদিকে ট্রাম্পের দ্রুত যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রত্যাশার বিপরীতে তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের আশঙ্কা ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তাকেই সামনে আনছে।