০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা কাস্টমসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চোরাচালানের অভিযোগ, শাস্তির দাবিতে আবেদন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:২১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চোরাচালানে সহযোগিতা এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-১ ব্যবহার করে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য খালাসের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগে এই চক্রের সঙ্গে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলসহ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কিছু সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশের দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরোনো ল্যাপটপ, মাদকদ্রব্য, মোবাইল ফোন, মেডিসিন, ড্রোন, ওয়াকি-টকি, মোবাইল ফোনের এলসিডি ও সানগ্লাসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শর্ত না মেনে এবং সঠিক ঘোষণা ছাড়াই খালাসের অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের অনিয়মের কারণে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু মোবাইল ফোনের চালান থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চীন, হংকং, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কমার্শিয়াল চালানের আড়ালে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মোবাইল ফোন শুল্ক ও আমদানি-সংক্রান্ত শর্ত পরিপালন ছাড়াই খালাসের দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অনিয়মের মাধ্যমে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোবাইল ফোনের এলসিডি আমদানির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েক মাস আগেও ডেলিভারি গেট-১ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন এলসিডির চালান খালাস হতো এবং এসব চালান থেকে সরকার প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা শুল্ক-কর পেত। বর্তমানে এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি ও খালাসে বাধার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা ডেলিভারি গেট-১-এর পণ্য খালাস কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ নেই।

আবেদনকারীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দুর্নীতি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাস্টমস হাউসে বৈধ ব্যবসা ও রাজস্ব আদায়ের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ

ঢাকা কাস্টমসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চোরাচালানের অভিযোগ, শাস্তির দাবিতে আবেদন

আপডেট: ০৪:২১:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চোরাচালানে সহযোগিতা এবং সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ এনে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

রোববার (১৭ আগস্ট) জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঢাকা কাস্টমস হাউসের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের ডেলিভারি গেট-১ ব্যবহার করে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য খালাসের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগে এই চক্রের সঙ্গে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাজেদ ও এনামুলসহ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কিছু সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের যোগসাজশের দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, কমার্শিয়াল পণ্য চালানের আড়ালে ইলেকট্রিক সিগারেট, সেক্স টয়, পুরোনো ল্যাপটপ, মাদকদ্রব্য, মোবাইল ফোন, মেডিসিন, ড্রোন, ওয়াকি-টকি, মোবাইল ফোনের এলসিডি ও সানগ্লাসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শর্ত না মেনে এবং সঠিক ঘোষণা ছাড়াই খালাসের অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ ধরনের অনিয়মের কারণে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু মোবাইল ফোনের চালান থেকেই প্রতিদিন প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, চীন, হংকং, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কমার্শিয়াল চালানের আড়ালে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মোবাইল ফোন শুল্ক ও আমদানি-সংক্রান্ত শর্ত পরিপালন ছাড়াই খালাসের দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অনিয়মের মাধ্যমে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোবাইল ফোনের এলসিডি আমদানির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েক মাস আগেও ডেলিভারি গেট-১ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে ১০ থেকে ১২টি মোবাইল ফোন এলসিডির চালান খালাস হতো এবং এসব চালান থেকে সরকার প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকা শুল্ক-কর পেত। বর্তমানে এসব পণ্য বৈধভাবে আমদানি ও খালাসে বাধার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা ডেলিভারি গেট-১-এর পণ্য খালাস কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালান সিন্ডিকেটের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ নেই।

আবেদনকারীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দুর্নীতি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাস্টমস হাউসে বৈধ ব্যবসা ও রাজস্ব আদায়ের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।