: নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের তিন শহরে চালু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বিশেষ ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। নারী যাত্রীদের কাছে ইতোমধ্যে এই সেবা ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মোট ১৪টি বাস নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বিশেষ এই সেবা।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি বাস পরিচালনা করা হবে। এসব বাসের চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারী কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে নারী যাত্রীরা নারী চালক, নারী কন্ডাক্টর ও নারী সহযাত্রীদের সঙ্গে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন।
ঢাকার যেসব রুটে চলবে পিংক বাস
প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ১০টি বাস চলাচল করবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রুট হলো—
নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল: কোকাকোলা, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, আবুল হোটেল, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিল।
তালতলা-মতিঝিল: তালতলা, খিলগাঁও রেলগেট, বাসাবো, বৌদ্ধ মন্দির, মুগদা, কমলাপুর রেলস্টেশন, আরামবাগ, শাপলা চত্বর, সচিবালয় হয়ে মতিঝিল।
ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও: ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, বাঁশের পুল, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, জনপথ মোড়, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, পল্টন, সচিবালয় ও জিপিও।
এ ছাড়া মিরপুর-১০, মিরপুর-১২, মিরপুর-১, নারায়ণগঞ্জ, মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং গাজীপুর-বিমানবন্দরসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে পিংক বাস চলাচল করবে।
বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল বাস রয়েছে।
কেমন হবে ভাড়া?
পিংক বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুসরণ করা হবে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাস, ডিপো ও কাউন্টারের দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের পিংক বাসে দূরত্ব অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬৮ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
থাকছে ই-টিকিটিং ও ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং
যাত্রীসেবা আরও সহজ করতে পিংক বাসে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করেছে বিআরটিসি। এ লক্ষ্যে বিআরটিসি ও ‘সহজ ডট কম’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর হয়েছে। এর মাধ্যমে নারী যাত্রীরা বাসে ওঠার আগেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
পাশাপাশি প্রতিটি বাসে যুক্ত করা হয়েছে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস)। এর মাধ্যমে বাসের অবস্থান ও চলাচল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে যাত্রীদের ওঠানামা আরও সুশৃঙ্খল হওয়ার পাশাপাশি নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করছে বিআরটিসি।
নারী যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ
উদ্বোধনের দিন থেকেই নতুন এই সেবা নিয়ে নারী যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে। তেজগাঁওয়ে পিংক বাসে ওঠা এক নারী যাত্রী ঐশি বলেন, সাধারণ বাসে চলাচলের সময় নারীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নারী চালক, কন্ডাক্টর ও নারী যাত্রী থাকায় পিংক বাসকে তুলনামূলক বেশি নিরাপদ মনে হচ্ছে।
কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বাসগুলো নিয়মিত, সময়মতো এবং নির্ধারিত রুটে চলাচল করলে প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, যাত্রী চাহিদা ও সেবার সাড়া বিবেচনায় ভবিষ্যতে পিংক বাসের সংখ্যা ও রুট আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নারী চালক-কন্ডাক্টর, নির্ধারিত স্টপেজ, ই-টিকিটিং ও ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সমন্বয়ে ‘পিংক বাস’ নারীদের গণপরিবহনে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্যভাবে সেবা পরিচালিত হলে কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




















