১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

টাকা ছাড়া কাজ হয় না সাতক্ষীরা সদর এসিল্যান্ড অফিসে—ঘুষ সিন্ডিকেটের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

টাকা ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন—সাতক্ষীরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের দাবি, নামজারি, জমির প্রতিবেদন, খাজনা দাখিলা, ইজারা ও বিরোধপূর্ণ জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়।

সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সদর ভূমি অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এ ক্ষেত্রে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজার সঙ্গে যোগসাজশে একটি কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনারও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শর্মিষ্ঠা সরকার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা। তারা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কোনো সেবাগ্রহীতা ভূমি অফিসে গেলে প্রথমে তাকে বিভিন্ন জটিলতার কথা বলে একাধিক টেবিলে ঘোরানো হয়। পরে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ফাইলের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজনের দাবি, নামজারির ক্ষেত্রে প্রায় ৬ হাজার টাকা, প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা এবং খাজনা দাখিলের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জমি নিয়ে জটিলতা বা ইজারাসংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগের অঙ্ক আরও বেড়ে লাখ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে বলেও তারা দাবি করেন।

তবে এসব অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন নথি বা সরকারি তদন্তের তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকার অনেক সময় নিজের দায়িত্বের টেবিলে না থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কক্ষে অবস্থান করেন। এতে তার কাছে প্রয়োজনীয় কাজে আসা মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, শর্মিষ্ঠা সরকারের সঙ্গে এসিল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তিনি অফিসে বাড়তি প্রভাব ভোগ করেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন কথাবার্তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই।

ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের আখড়াখোলা এলাকার বাসিন্দা গীতা রানী অভিযোগ করেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে জমির নামজারি করতে তিনি সদর ভূমি অফিসে গেলে প্রথমে সার্ভেয়ার তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের কাছে পাঠানো হয়।

গীতা রানীর দাবি, নামজারির জন্য তার কাছে প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি কান্নাকাটি করলে ১ লাখ টাকায় কাজ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। এ বিষয়ে কথোপকথনের একটি রেকর্ড বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গীতা রানী অভিযোগটির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা শহরের থানাঘাটা এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, তার জমিসংক্রান্ত ১৪৫ ধারার একটি মামলার প্রতিবেদনের জন্য তার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছিল। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধীপক্ষের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ভূমি অফিসের অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিয়েছেন বলেও জানান।

তবে তার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

সেবাগ্রহীতাদের আরও অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও ফাইল খারিজ করে দেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত অর্থের সমঝোতা হলে সেই ফাইল পুনরায় কার্যকর করার অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ফাইল, আদালতের আদেশ এবং অফিসের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের বিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকার বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো জানেন এবং প্রয়োজন হলে তারা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি ঘুষ বাণিজ্য বা কোনো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও অস্বীকার করেন।

এ ছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে তার বিশেষ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা বলেন, তার কার্যালয়ে কোনো ঘুষ বাণিজ্য চলে না। কোনো কর্মকর্তা তার নাম ব্যবহার করে অনিয়ম করলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় এবং প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার কার্যালয়ে এভাবে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইল, সরকারি ফি’র তালিকা, আবেদন নিষ্পত্তির সময়, অভিযোগপত্র, আদালতের আদেশ এবং অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি ভূমি সেবাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম, ঘুষ বা হয়রানি হয়ে থাকলে তা বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সর্বাধিক পঠিত

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত ভেঙে ‘পালানো’, শিক্ষার্থী ও মায়ের বিরুদ্ধে যশোরে প্রতারণা মামলা

টাকা ছাড়া কাজ হয় না সাতক্ষীরা সদর এসিল্যান্ড অফিসে—ঘুষ সিন্ডিকেটের অভিযোগ

আপডেট: ০৬:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

টাকা ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন—সাতক্ষীরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের দাবি, নামজারি, জমির প্রতিবেদন, খাজনা দাখিলা, ইজারা ও বিরোধপূর্ণ জমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়।

সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সদর ভূমি অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। এ ক্ষেত্রে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজার সঙ্গে যোগসাজশে একটি কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনারও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শর্মিষ্ঠা সরকার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা। তারা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কোনো সেবাগ্রহীতা ভূমি অফিসে গেলে প্রথমে তাকে বিভিন্ন জটিলতার কথা বলে একাধিক টেবিলে ঘোরানো হয়। পরে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ফাইলের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজনের দাবি, নামজারির ক্ষেত্রে প্রায় ৬ হাজার টাকা, প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা এবং খাজনা দাখিলের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জমি নিয়ে জটিলতা বা ইজারাসংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগের অঙ্ক আরও বেড়ে লাখ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে বলেও তারা দাবি করেন।

তবে এসব অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন নথি বা সরকারি তদন্তের তথ্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকার অনেক সময় নিজের দায়িত্বের টেবিলে না থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কক্ষে অবস্থান করেন। এতে তার কাছে প্রয়োজনীয় কাজে আসা মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, শর্মিষ্ঠা সরকারের সঙ্গে এসিল্যান্ডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণে তিনি অফিসে বাড়তি প্রভাব ভোগ করেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ছড়ানো বিভিন্ন কথাবার্তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগও নেই।

ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের আখড়াখোলা এলাকার বাসিন্দা গীতা রানী অভিযোগ করেন, আদালতের রায়ের ভিত্তিতে জমির নামজারি করতে তিনি সদর ভূমি অফিসে গেলে প্রথমে সার্ভেয়ার তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তাকে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকারের কাছে পাঠানো হয়।

গীতা রানীর দাবি, নামজারির জন্য তার কাছে প্রথমে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি কান্নাকাটি করলে ১ লাখ টাকায় কাজ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। এ বিষয়ে কথোপকথনের একটি রেকর্ড বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গীতা রানী অভিযোগটির তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা শহরের থানাঘাটা এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, তার জমিসংক্রান্ত ১৪৫ ধারার একটি মামলার প্রতিবেদনের জন্য তার কাছে টাকা দাবি করা হয়েছিল। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিরোধীপক্ষের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাদের পক্ষে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ভূমি অফিসের অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিয়েছেন বলেও জানান।

তবে তার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

সেবাগ্রহীতাদের আরও অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও ফাইল খারিজ করে দেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত অর্থের সমঝোতা হলে সেই ফাইল পুনরায় কার্যকর করার অভিযোগও রয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ফাইল, আদালতের আদেশ এবং অফিসের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের বিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সরকার বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো জানেন এবং প্রয়োজন হলে তারা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি ঘুষ বাণিজ্য বা কোনো সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও অস্বীকার করেন।

এ ছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে তার বিশেষ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

সাতক্ষীরা সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বদরুদ্দোজা বলেন, তার কার্যালয়ে কোনো ঘুষ বাণিজ্য চলে না। কোনো কর্মকর্তা তার নাম ব্যবহার করে অনিয়ম করলে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় এবং প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শর্মিষ্ঠা সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার কার্যালয়ে এভাবে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।

ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ফাইল, সরকারি ফি’র তালিকা, আবেদন নিষ্পত্তির সময়, অভিযোগপত্র, আদালতের আদেশ এবং অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত হলে অভিযোগগুলো সত্য না মিথ্যা—তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি ভূমি সেবাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম, ঘুষ বা হয়রানি হয়ে থাকলে তা বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।