০৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামে গরুর নিলামের ভাগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সীমান্তে বিজিবির হাতে আটক ভারতীয় গরুর প্রকাশ্য নিলামের লভ্যাংশের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বিজিবির হাতে আটক ১০টি ভারতীয় গরুর প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়। নিলামকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

একপর্যায়ে নিলামের লভ্যাংশ বণ্টন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ৫০ শতাংশ অংশ দাবি করেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ৩০ শতাংশ অংশ দিতে সম্মত হন। এ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার দৃশ্য ‘আবু সাঈদ ইউনিট’-এর সভাপতি মাহাবুব আলম মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুনরায় উন্মুক্ত নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিলামে যুবদল কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাফিল সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা দর হাঁকিয়ে ১০টি গরু কিনে নেন।

ঘটনার বিষয়ে রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. হায়দার আলী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপির ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু ব্যক্তি সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সিন্ডিকেট করে সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় দলের নেতারা একসঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বিএনপির মূল দলের কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না; তবে যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি কোনোভাবেই এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী তাকে ফোন করেছেন এবং উভয় পক্ষ বসে সমাধানের চেষ্টা করছে।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নিলামের লভ্যাংশ নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ধরনের বিরোধের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

দক্ষিণ কোরিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত ভেঙে ‘পালানো’, শিক্ষার্থী ও মায়ের বিরুদ্ধে যশোরে প্রতারণা মামলা

কুড়িগ্রামে গরুর নিলামের ভাগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতাহাতি

আপডেট: ০৬:৪১:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সীমান্তে বিজিবির হাতে আটক ভারতীয় গরুর প্রকাশ্য নিলামের লভ্যাংশের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা চত্বরে স্থানীয় কাস্টমস কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বিজিবির হাতে আটক ১০টি ভারতীয় গরুর প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়। নিলামকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

একপর্যায়ে নিলামের লভ্যাংশ বণ্টন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়। এ সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা ৫০ শতাংশ অংশ দাবি করেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ৩০ শতাংশ অংশ দিতে সম্মত হন। এ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ার দৃশ্য ‘আবু সাঈদ ইউনিট’-এর সভাপতি মাহাবুব আলম মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গেলে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে বাধা দেন। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুনরায় উন্মুক্ত নিলাম প্রক্রিয়া শুরু হয়। নিলামে যুবদল কর্মী ও সাবেক ছাত্রনেতা ইসরাফিল সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা দর হাঁকিয়ে ১০টি গরু কিনে নেন।

ঘটনার বিষয়ে রৌমারী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. হায়দার আলী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে বিএনপির ছাত্রদল ও যুবদলের কিছু ব্যক্তি সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সিন্ডিকেট করে সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় দলের নেতারা একসঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে রৌমারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু বলেন, গরুর নিলামকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বিএনপির মূল দলের কোনো নেতাকর্মী ছিলেন না; তবে যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি কোনোভাবেই এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী তাকে ফোন করেছেন এবং উভয় পক্ষ বসে সমাধানের চেষ্টা করছে।

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওছার আলী বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকায় বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

নিলামের লভ্যাংশ নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ধরনের বিরোধের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।