০১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

জুয়ার নেশায় একসঙ্গে ১৪ জনকে বিয়ে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৮

জুয়ার নেশার খরচ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতার কারণে তার কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। ‘ভিকি লিয়াং’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন তিনি।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের কাছে দাবি করতেন যে চীনে থাকা অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ প্রয়োজন। এই অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেন। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, সেই অর্থ চিকিৎসায় ব্যয় না করে লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেই ব্যবহার করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, শুধু গত এক বছরেই জুয়া খেলতে গিয়ে চেন তিন লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে আদালতে তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশও করা হবে।

আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তিনি অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই চেন বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর চেন জানিয়ে দেন যে তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না।

জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এছাড়া লাস ভেগাসে বিয়ে করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় শহরটিকেই তিনি তার প্রতারণার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত

সিলেটে ধর্ষণ মামলায় সাবেক ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

জুয়ার নেশায় একসঙ্গে ১৪ জনকে বিয়ে

আপডেট: ১১:০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

জুয়ার নেশার খরচ জোগাতে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমঝোতার কারণে তার কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযুক্ত ৩৩ বছর বয়সী জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেন। ‘ভিকি লিয়াং’ নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন তিনি।

প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের কাছে দাবি করতেন যে চীনে থাকা অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অর্থ প্রয়োজন। এই অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করেন। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, সেই অর্থ চিকিৎসায় ব্যয় না করে লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলতেই ব্যবহার করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, শুধু গত এক বছরেই জুয়া খেলতে গিয়ে চেন তিন লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে দোষ স্বীকার করেন চেন। এর বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে আদালতে তার জন্য প্রবেশনের সুপারিশও করা হবে।

আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তিনি অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই চেন বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। বিয়ের পর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার নেওয়ার পর চেন জানিয়ে দেন যে তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চান না।

জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারতেন। এছাড়া লাস ভেগাসে বিয়ে করা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় শহরটিকেই তিনি তার প্রতারণার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।