ভেনেজুয়েলায় আঘাত হেনেছে দুটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ মানুষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) বরাত দিয়ে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিгеজ প্রাথমিকভাবে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে উদ্ধারকাজ চলার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এই ভূমিকম্পের ভয়াবহতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, এই দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। ইউএসজিএসের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী:প্রাণহানি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ।মৃতের সংখ্যা ১ লাখ পার হওয়ার সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ।
সংস্থাটি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও তীব্রতার কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির এই প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজ জোরদার করতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্র আঘাতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাইকেতিয়ায় অবস্থিত ‘সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এর সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা পাতিয়ার তথ্য অনুযায়ী, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সব স্কুল-কলেজের পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাতালরেল (মেট্রো) ও সাধারণ রেল চলাচল স্থগিত রয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ নাগরিকদের ঘরের বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে অন্যান্য সব ধরনের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফকে জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকবেন ‘বলিভারিয়ান ন্যাশনাল গার্ড’-এর কমান্ডার জেনারেল। বর্তমানে সেনাবাহিনী মাঠে নেমে সরাসরি উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেয়ো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, দেশের বহু মানুষ বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সরকার দ্রুততম সময়ে সব জায়গায় সাহায্য পৌঁছে দিতে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার এবং একে অপরের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কাবেয়ো আরও উল্লেখ করেন, রাজধানী কারাকাসের আলতামিরা এলাকার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ সেখানে একাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে তিনি সাধারণ চালকদের সড়ক ফাঁকা রাখার অনুরোধ করেছেন, যাতে জরুরি সেবাকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত যাতায়াত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পর পর দুটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়: ১. প্রথম ধাক্কা: রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ২. দ্বিতীয় ধাক্কা: এর ঠিক কিছুক্ষণ পরই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরও একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এই জোড়া ভূকম্পনের তীব্র ধাক্কায় রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত ভবন ধসে পড়েছে। ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।




















