কুষ্টিয়া কর অঞ্চল কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় অন্য প্রার্থীর হয়ে প্রক্সি দিতে গিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অফিস সহায়ক পদে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে যাচাই-বাছাই করে জালিয়াতির বিষয়টি উদঘাটন করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৪ জুন) নিয়োগ কর্তৃপক্ষ আটক চারজনের বিরুদ্ধে পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিত অফিস সহায়ক পদে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হয় কর্তৃপক্ষের। পরে তাদের কাগজপত্র ও পরিচয় যাচাই করা হলে প্রবেশপত্রে ব্যবহৃত ছবি পরিবর্তন, পরিচয় গোপন এবং অন্য প্রার্থীর হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিরা প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর মধ্যরাতে তাদের কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত চাকরি প্রার্থীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করে আসছিল। এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, “নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”
নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




















