০৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হুমকির অভিযোগ: ‘লাল-সবুজ খাতায় সব লিখে রাখছি’—ইনু

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ৫১১

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়ে হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডাও হয়। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় ইনু ও জাসদ সভাপতি রাসেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য কারাগার থেকে হাসানুল হক ইনু ও রাসেদ খান মেননকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে থাকলেও আদালতের বিচারক ও আইন কর্মকর্তারা কী করছেন, তার সবকিছু তিনি কারাগারে একটি লাল খাতা ও একটি সবুজ খাতায় সংরক্ষণ করে রাখছেন।

ইনু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছি। কোন আদালতের কোন বিচারক, কোন আইন কর্মকর্তা কী করছেন, তা একটি লাল খাতা ও একটি সবুজ খাতায় লিখে রাখছি।”

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা হিসেবে কাজ করছে।

ইনুর বক্তব্যের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুন অর রশিদ তাকে থামানোর চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইনু আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি চুপ করেন।”

এরপর এপিপি হারুন অর রশিদ আদালতের কাছে অভিযোগ করেন যে, আসামি আদালত অবমাননা করেছেন এবং আদালতসহ সংশ্লিষ্টদের হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান বিচারক।

এর আগে বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বংশাল এলাকায় মো. মোখলেছিনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ইনু ও মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি হারুন অর রশিদ শুনানিতে অংশ নেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন।

শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুল মোড়ে নাজিমউদ্দিন রোড এলাকায় মিছিল চলাকালে মো. মোখলেছিন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ১ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে একাধিক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয় হাসানুল হক ইনু ও রাসেদ খান মেননকে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে এপিপি হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আজ আদালতসহ আমাদের সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কারাগারে বসে একটি লাল খাতা ও একটি সবুজ খাতায় সবার কার্যক্রম লিখে রাখেন। তিনি বিচার ব্যবস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা বলেও মন্তব্য করেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।”

সর্বাধিক পঠিত

নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা: ঢাকা-চট্টগ্রামসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হুমকির অভিযোগ: ‘লাল-সবুজ খাতায় সব লিখে রাখছি’—ইনু

আপডেট: ০৪:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়ে হুমকিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডাও হয়। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়ে একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় ইনু ও জাসদ সভাপতি রাসেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। একটি হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য কারাগার থেকে হাসানুল হক ইনু ও রাসেদ খান মেননকে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে থাকলেও আদালতের বিচারক ও আইন কর্মকর্তারা কী করছেন, তার সবকিছু তিনি কারাগারে একটি লাল খাতা ও একটি সবুজ খাতায় সংরক্ষণ করে রাখছেন।

ইনু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছি। কোন আদালতের কোন বিচারক, কোন আইন কর্মকর্তা কী করছেন, তা একটি লাল খাতা ও একটি সবুজ খাতায় লিখে রাখছি।”

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা হিসেবে কাজ করছে।

ইনুর বক্তব্যের সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুন অর রশিদ তাকে থামানোর চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইনু আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি চুপ করেন।”

এরপর এপিপি হারুন অর রশিদ আদালতের কাছে অভিযোগ করেন যে, আসামি আদালত অবমাননা করেছেন এবং আদালতসহ সংশ্লিষ্টদের হুমকি দিয়েছেন। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান বিচারক।

এর আগে বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বংশাল এলাকায় মো. মোখলেছিনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ইনু ও মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি হারুন অর রশিদ শুনানিতে অংশ নেন এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন।

শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখারপুল মোড়ে নাজিমউদ্দিন রোড এলাকায় মিছিল চলাকালে মো. মোখলেছিন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ১ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে একাধিক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয় হাসানুল হক ইনু ও রাসেদ খান মেননকে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে এপিপি হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, “সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আজ আদালতসহ আমাদের সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কারাগারে বসে একটি লাল খাতা ও একটি সবুজ খাতায় সবার কার্যক্রম লিখে রাখেন। তিনি বিচার ব্যবস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা বলেও মন্তব্য করেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।”