ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৫ বছর বয়সী শিশু তাবাসসুম আক্তার তোয়া ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং লাশ গুমের অপরাধে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন, ২০২৬) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, জরিমানার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে হবে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহী গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন আবু তাহের তার প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের ৫ বছরের কন্যাসন্তান তোয়াকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধ ঢাকতে তোয়ার মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পার্শ্ববর্তী আবুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় আসামি।
শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবার ওই দিন সন্ধ্যায় কালীগঞ্জ থানায় বিষয়টি অবগত করে। তদন্তে নেমে পরদিন (২৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর তদন্তে নেমে মাত্র এক দিনের মাথায় কুষ্টিয়া শহর থেকে ঘাতক আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর সে আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর মাত্র ১১৬ দিনের মধ্যে এবং ৫ কার্যদিবসে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এই রায় ঘোষণা করা হয়। ঝিনাইদহ আদালতের ইতিহাসে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়াকে একটি অনন্য নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তোয়ার পরিবার ও স্বজনরা। তারা অবিলম্বে ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন যে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।




















