যশোর প্রতিনিধি:
শুঁটকি মাছের গন্ধকে ঢাল বানিয়ে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচারের চেষ্টা চালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না এক মাদক কারবারির। যশোরে শুঁটকি মাছের টোপলার ভেতর বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ হযরত আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক হযরত আলী বেনাপোল পোর্ট থানার সাদিপুর গ্রামের জামাত আলীর ছেলে।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে শুঁটকির চালানের আড়ালে মাদকের একটি বড় চালান যশোরের দিকে আসছে—এমন একটি গোপন সংবাদ আসে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে যশোর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই কামরুজ্জামান ও এসআই কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম হামিদপুর এলাকায় অবস্থান নেয় এবং একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে।
দুপুরের দিকে সন্দেহভাজন হিসেবে হযরত আলীকে থামায় ডিবি পুলিশ। এ সময় তার সাথে থাকা শুঁটকি মাছের টোপলাটি দেখে সন্দেহ হয় কর্মকর্তাদের। সাধারণত শুঁটকির তীব্র গন্ধের কারণে পুলিশ তল্লাশি এড়াতে পারে—এমন ধারণা থেকেই এই কৌশল বেছে নিয়েছিল কারবারি। তবে ডিবি পুলিশ টোপলাটি খুলে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালালে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। শুঁটকি মাছের স্তূপের নিচে অত্যন্ত নিখুঁত ও বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক হযরত আলী দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে এভাবে অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনের কথা স্বীকার করেছে।
এই ঘটনার পর আটক মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এই চালানের মূল হোতা এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্য মাদক সিন্ডিকেট সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত পয়েন্টে নজরদারি এবং চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকমুক্ত জেলা গঠনে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



















