শনিবার রাত প্রায় ৮টা ৫৫ মিনিটে বান্নু জেলার ফতেহ খেল এলাকায় অবস্থিত একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে ধাক্কা দেয়। বিস্ফোরণটি এতই শক্তিশালী ছিল যে, নিরাপত্তা পোস্টের ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়ে। বোমা বিশেষজ্ঞ দলের মতে, এই হামলায় প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল।
বিস্ফোরণের পরপরই হামলাকারীরা ড্রোন (কোয়াডকপ্টার) এবং ভারী অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ শুনে যখন অন্য পুলিশ সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে সহায়তার জন্য আসছিলেন, তখন তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা (অ্যাম্বুশ) চালানো হয়। হামলাকারীরা পিছু হটার সময় পুলিশের অস্ত্র ও সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা কম মনে হলেও ভবন ধসে পড়ায় এবং পরে অতর্কিত হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:
২১ জন পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার কনস্ট্যাবুলারি সদস্য। ৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ২ জন সাধারণ নাগরিক।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের বেসামরিক ঘরবাড়িও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নব্য গঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠী **’ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান’ (IMP)** এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি গত বছর তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) তিনটি উপদলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে একে টিটিপি-র একটি ছায়া সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঘটনার পর বান্নুর সরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন।
এই হামলার ফলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে, যদিও বর্তমান তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তথ্যসূত্র:* আল জাজির




















