০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে জমি দখলের অভিযোগ: সাবেক ডিবি ওসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৬

যশোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক ওসি মো. আবুল হাসেম খানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যশোর সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পৃথা খান পারুল আদালতের দ্বারস্থ হন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—যশোর সদর উপজেলার কচুয়া নন্দীঘাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাবেক ওসি মো. আবুল হাসেম খান, তার ছেলে মেহেদী খান, আসাদ খানের ছেলে তাজু খান, মৃত কাশেম আলী খানের ছেলে আয়ুব খান ও সুমন খানসহ মোট ৬ জন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিটি মূলত দুই ভাই—মৃত সলেমান খান ও মৃত পাঞ্জু খানের দখলে ছিল। সলেমান খানের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র সোনা খান ও মনোয়ার খান উত্তরাধিকারী হন। অন্যদিকে, পাঞ্জু খান মৃত্যুকালে তার একমাত্র কন্যা মকরুন নেছাকে ওয়ারিশ হিসেবে রেখে যান।

মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুযায়ী, পাঞ্জু খানের কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় তার সম্পত্তিতে ভাইয়ের সন্তানদেরও অংশীদার হওয়ার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি আর.এস. রেকর্ডে সোনা খানের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়।

সোনা খানের মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মো. হাফিজুর রহমান উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন। পরে তিনি ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ২০৫০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তার পুত্র আব্দুল কাদের ও শিমুল খান এবং কন্যা রুবা খাতুন ও পৃথা খান পারুলের মধ্যে হেবা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টন করেন।
বাদীপক্ষের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন এবং নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করছেন। জমিতে পারিবারিক কবরস্থানসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছপালাও রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি বিবাদীপক্ষ লোহার রড, বাঁশের লাঠি, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাদীপক্ষ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে জমি দখল এবং বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়েছেন। মামলার শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সাবেক ডিবি ওসি মো. আবুল হাসেম খানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

দুদকের মামলায় তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঝিনাইদহ থেকে অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান এই মামলাও আলোচনায় রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে জমি দখলের অভিযোগ: সাবেক ডিবি ওসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

যশোরে জমি দখলের অভিযোগ: সাবেক ডিবি ওসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

আপডেট: ০৭:০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক ওসি মো. আবুল হাসেম খানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যশোর সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পৃথা খান পারুল আদালতের দ্বারস্থ হন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—যশোর সদর উপজেলার কচুয়া নন্দীঘাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সাবেক ওসি মো. আবুল হাসেম খান, তার ছেলে মেহেদী খান, আসাদ খানের ছেলে তাজু খান, মৃত কাশেম আলী খানের ছেলে আয়ুব খান ও সুমন খানসহ মোট ৬ জন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিটি মূলত দুই ভাই—মৃত সলেমান খান ও মৃত পাঞ্জু খানের দখলে ছিল। সলেমান খানের মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র সোনা খান ও মনোয়ার খান উত্তরাধিকারী হন। অন্যদিকে, পাঞ্জু খান মৃত্যুকালে তার একমাত্র কন্যা মকরুন নেছাকে ওয়ারিশ হিসেবে রেখে যান।

মুসলিম ফারায়েজ আইন অনুযায়ী, পাঞ্জু খানের কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় তার সম্পত্তিতে ভাইয়ের সন্তানদেরও অংশীদার হওয়ার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি আর.এস. রেকর্ডে সোনা খানের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়।

সোনা খানের মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মো. হাফিজুর রহমান উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির মালিক হন। পরে তিনি ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ২০৫০ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তার পুত্র আব্দুল কাদের ও শিমুল খান এবং কন্যা রুবা খাতুন ও পৃথা খান পারুলের মধ্যে হেবা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টন করেন।
বাদীপক্ষের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন এবং নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করছেন। জমিতে পারিবারিক কবরস্থানসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছপালাও রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সম্প্রতি বিবাদীপক্ষ লোহার রড, বাঁশের লাঠি, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাদীপক্ষ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে জমি দখল এবং বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে তাদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়েছেন। মামলার শুনানি শেষে আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সাবেক ডিবি ওসি মো. আবুল হাসেম খানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

দুদকের মামলায় তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার ১৪৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঝিনাইদহ থেকে অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চলমান এই মামলাও আলোচনায় রয়েছে।