০৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ায় দুশ্চিন্তায় মণিরামপুরের বোরো চাষিরা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৮

বৈশাখের মাঠজুড়ে এখন বোরো ধান কাটার উৎসবমুখর ব্যস্ততা। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ। কোথাও ধান কাটা, কোথাও আঁটি বাঁধা, আবার কোথাও মাড়াই কিংবা ঘরে তোলার কাজ চলছে পুরোদমে। তবে বাম্পার ফলনের আনন্দের মাঝেও শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।
এবার মণিরামপুরে বোরো ধানের ফলন আশাব্যঞ্জক হলেও সময়মতো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে শ্রমিকের তীব্র সংকট, অন্যদিকে হঠাৎ হঠাৎ কালো মেঘ, ঝড়-বৃষ্টি এবং অনিশ্চিত আবহাওয়া কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা সকাল ও বিকেলের তুলনামূলক অনুকূল সময়কে কাজে লাগিয়ে ধান কাটায় ব্যস্ত। কেউ কাস্তে হাতে ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ বা মাঠেই মাড়াই করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে অংশ নিচ্ছেন ফসল ঘরে তোলার কাজে।

বালিধা গ্রামের কৃষক ও সাংবাদিক সানোয়ার হোসেন তিতু জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। পোকামাকড়ের আক্রমণ সামলানোর পরও ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি এতটাই বেড়েছে যে, এক মণ ধানের দামে একজন শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদিত ধানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে শুধু শ্রমিকের পেছনে।

দত্তকোনা গ্রামের কৃষক মিন্টু বলেন, তিনি এ বছর দুই একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ধান ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারলে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের খরচও মেটাতে পারবেন।

হাসাডাঙ্গা গ্রামের আরশাফ আলী এবং আমিনপুর গ্রামের মশিয়ার রহমানসহ আরও অনেক কৃষক জানান, গত বছর যেখানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, সেখানে এবার ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর বাজারে ধানের দামও আশানুরূপ নয়। ফলে বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে অনেক কৃষক লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকেই বেশি দামে শ্রমিক নিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা আক্তার জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সমান। সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলা জরুরি। এজন্য কৃষকের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে সেই সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যেতে পারে। তাই কৃষকদের একটাই প্রত্যাশা—প্রকৃতি সহায় হোক, আর শ্রমিক সংকট কাটিয়ে দ্রুত ঘরে উঠুক সোনালি ফসল।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে জমি দখলের অভিযোগ: সাবেক ডিবি ওসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ায় দুশ্চিন্তায় মণিরামপুরের বোরো চাষিরা

আপডেট: ০৪:৫১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বৈশাখের মাঠজুড়ে এখন বোরো ধান কাটার উৎসবমুখর ব্যস্ততা। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ। কোথাও ধান কাটা, কোথাও আঁটি বাঁধা, আবার কোথাও মাড়াই কিংবা ঘরে তোলার কাজ চলছে পুরোদমে। তবে বাম্পার ফলনের আনন্দের মাঝেও শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।
এবার মণিরামপুরে বোরো ধানের ফলন আশাব্যঞ্জক হলেও সময়মতো ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে শ্রমিকের তীব্র সংকট, অন্যদিকে হঠাৎ হঠাৎ কালো মেঘ, ঝড়-বৃষ্টি এবং অনিশ্চিত আবহাওয়া কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা সকাল ও বিকেলের তুলনামূলক অনুকূল সময়কে কাজে লাগিয়ে ধান কাটায় ব্যস্ত। কেউ কাস্তে হাতে ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ বা মাঠেই মাড়াই করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে অংশ নিচ্ছেন ফসল ঘরে তোলার কাজে।

বালিধা গ্রামের কৃষক ও সাংবাদিক সানোয়ার হোসেন তিতু জানান, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। পোকামাকড়ের আক্রমণ সামলানোর পরও ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি এতটাই বেড়েছে যে, এক মণ ধানের দামে একজন শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদিত ধানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে শুধু শ্রমিকের পেছনে।

দত্তকোনা গ্রামের কৃষক মিন্টু বলেন, তিনি এ বছর দুই একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ধান ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারলে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের খরচও মেটাতে পারবেন।

হাসাডাঙ্গা গ্রামের আরশাফ আলী এবং আমিনপুর গ্রামের মশিয়ার রহমানসহ আরও অনেক কৃষক জানান, গত বছর যেখানে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, সেখানে এবার ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর ওপর বাজারে ধানের দামও আশানুরূপ নয়। ফলে বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে অনেক কৃষক লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, শ্রমিক সংকটের কারণে অনেকেই বেশি দামে শ্রমিক নিয়োগ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মাহমুদা আক্তার জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২৭ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সমান। সবকিছু অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৬০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলা জরুরি। এজন্য কৃষকের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে সেই সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যেতে পারে। তাই কৃষকদের একটাই প্রত্যাশা—প্রকৃতি সহায় হোক, আর শ্রমিক সংকট কাটিয়ে দ্রুত ঘরে উঠুক সোনালি ফসল।