ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে। রবিবার (২২ মার্চ) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার এই আদালতে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের হাজির করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
গ্রেফতার ও রিমান্ডের প্রেক্ষাপট
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন বনগাঁ এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করা ফয়সাল ও আলমগীরকে প্রথম দফায় ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। সেই রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ তাদের পুনরায় আদালতে সোপর্দ করা হলো।
আদালতে প্রবেশের সময় সাংবাদিকরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ সরাসরি তা অস্বীকার করেন। তবে এই ঘটনায় তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তরা বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। ওইদিন রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে মাথায় গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ঢাকার পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলাটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এই গ্রেফতারি ও আইনি প্রক্রিয়া হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




















