০৮:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরায় মাহমুদার কোটি টাকার প্রতারণা: বিচার দাবিতে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৩৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ৫২৮

ব্যাংকার ও সাংবাদিক পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলোচিত নারী প্রতারক মাহমুদা জামানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার শতাধিক ভুক্তভোগী। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা মাহমুদার কঠোর শাস্তি ও আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরতের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. আ. সোবাহান। তিনি জানান, যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সদুল্যাপুর গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে মাহমুদা জামান (বর্তমানে ঢাকার লালবাগ নিবাসী) দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে নানা প্রলোভনে ফেলে প্রতারণা করে আসছেন। নিজেকে কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা, কখনো এনজিওর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন।
:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাহমুদা স্বল্প সুদে বড় অংকের লোন পাইয়ে দেওয়া, বিমা খোলা এবং আকর্ষণীয় বেতনে এনজিওতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা এবং সই করা ব্ল্যাঙ্ক চেক হাতিয়ে নিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়:
* ইন্নাতুল হাসানের ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
* দীপু খাতুনকে চাকরির প্রলোভনে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা।
* শুকুর আলীকে লোন দেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা।
* ইমরান হোসেনের সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
* তানজিনা রহমানের ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ ব্যাংকের ৪টি সই করা ব্ল্যাঙ্ক চেক।
এছাড়া সোহান, রমজান, আল আমিন ও সাইদুর রহমানসহ আরও অনেকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ:
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তিন জেলার ভুক্তভোগীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তারা অত্যন্ত দরিদ্র। ধার-দেনা ও ঋণ করে মাহমুদাকে এই টাকা দিয়েছিলেন। এখন টাকা ও চেক ফেরত না পেলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তারা দ্রুত এই প্রতারককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
:
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ ভুক্তভোগীরা মাহমুদাকে যশোরের দড়াটানা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরদিন ৮ মার্চ তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করা হয় এবং বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ইন্নাতুল হাসান, তানজিনা রহমান, শান্তনা, নুপুর, শাহিনা, ইমরানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে শার্শায় বিএনপির বিশাল প্রচার মিছিল

যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরায় মাহমুদার কোটি টাকার প্রতারণা: বিচার দাবিতে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৯:৩৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ব্যাংকার ও সাংবাদিক পরিচয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আলোচিত নারী প্রতারক মাহমুদা জামানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার শতাধিক ভুক্তভোগী। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা মাহমুদার কঠোর শাস্তি ও আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরতের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. আ. সোবাহান। তিনি জানান, যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সদুল্যাপুর গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে মাহমুদা জামান (বর্তমানে ঢাকার লালবাগ নিবাসী) দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে নানা প্রলোভনে ফেলে প্রতারণা করে আসছেন। নিজেকে কখনো ব্যাংক কর্মকর্তা, কখনো এনজিওর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতেন।
:
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাহমুদা স্বল্প সুদে বড় অংকের লোন পাইয়ে দেওয়া, বিমা খোলা এবং আকর্ষণীয় বেতনে এনজিওতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা এবং সই করা ব্ল্যাঙ্ক চেক হাতিয়ে নিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়:
* ইন্নাতুল হাসানের ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
* দীপু খাতুনকে চাকরির প্রলোভনে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা।
* শুকুর আলীকে লোন দেওয়ার কথা বলে ৬ লাখ টাকা।
* ইমরান হোসেনের সাড়ে ৪ লাখ টাকা।
* তানজিনা রহমানের ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকাসহ ব্যাংকের ৪টি সই করা ব্ল্যাঙ্ক চেক।
এছাড়া সোহান, রমজান, আল আমিন ও সাইদুর রহমানসহ আরও অনেকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ:
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত তিন জেলার ভুক্তভোগীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তারা অত্যন্ত দরিদ্র। ধার-দেনা ও ঋণ করে মাহমুদাকে এই টাকা দিয়েছিলেন। এখন টাকা ও চেক ফেরত না পেলে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তারা দ্রুত এই প্রতারককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
:
উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ ভুক্তভোগীরা মাহমুদাকে যশোরের দড়াটানা এলাকা থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পরদিন ৮ মার্চ তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা দায়ের করা হয় এবং বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে ইন্নাতুল হাসান, তানজিনা রহমান, শান্তনা, নুপুর, শাহিনা, ইমরানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।