নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর | দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারের নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাঁর জন্মভূমি যশোরে পা রেখেছেন। মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রথমবার নিজ জেলায় পৌঁছালে তাঁকে ঘিরে পুরো শহর উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে।
সকাল থেকেই যশোর বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করার পর স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। “ঘরের ছেলে”কে বরণ করে নিতে নিরাপত্তা বলয় উপেক্ষা করেও হাজারো মানুষ ভিড় জমান। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত হাসিমুখে হাত নেড়ে সবার শুভেচ্ছার জবাব দেন এবং অনেকের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার ও ফুলেল শুভেচ্ছা
বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি যশোর সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা শেষে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয়।
“যশোরের মানুষের ঋণ শোধ করতে চাই”: আবেগাপ্লুত প্রতিমন্ত্রী
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন:
> “যশোরের এই মাটি ও মানুষের কাছে আমার ঋণ অপরিশোধিত। আপনারা আজ যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল। প্রধানমন্ত্রী আমাকে যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন, তার সুফল যেন যশোরের প্রতিটি ঘরে পৌঁছায়—আমি সেই চেষ্টাই করব।”
>
যশোরের বর্ষীয়ান জননেতা ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের সুযোগ্য পুত্র হিসেবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের এই প্রাপ্তিকে জেলাবাসী নিজেদের গর্ব হিসেবে দেখছেন। বাবার আদর্শকে ধারণ করে তিনি মন্ত্রী হিসেবে জেলায় ফেরায় অনেক প্রবীণ নেতাকর্মীকে আবেগপ্রবণ হতে দেখা গেছে।
তিন দিনের কর্মব্যস্ত সফরসূচি
প্রতিমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে রয়েছে ঠাসা কর্মসূচি:
শুক্রবার বিকেল ৩টা: জেলা সার্কিট হাউসে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়।
শুক্রবার সন্ধ্যা: হোটেল ওরিয়ন মিলনায়তনে ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিল।
২১ ফেব্রুয়ারি (প্রথম প্রহর): এম এম কলেজ শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
শনিবার বেলা ১১টা: জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য।
শনিবার দুপুর ১২টা: সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
আগামী রোববার সকালে সড়কপথে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে যশোর অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয়রা।





















