০১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার: যশোরের যুবককে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল চক্র

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩৬

উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যেতে চেয়েছিলেন যশোরের যুবক আকাশ। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে তাঁর স্বপ্ন এখন লিবিয়ার বন্দিশালায় ধুঁকছে। ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে লিবিয়ায় পাচার করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আকাশের মা রিনা পারভীন বাদী হয়ে যশোর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি নিয়মিত হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন:
১. কাজী সফিকুর রহমান (কুমিল্লা)
২. কনিকা আক্তার (মাদারীপুর)
৩. হেমায়েত খান (শরিয়তপুর)
৪. সুলতান (নোয়াখালী)

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আকাশের বোন ফারজিয়া ইসলামের মাধ্যমে আসামি কনিকা আক্তারের সঙ্গে ওই পরিবারের পরিচয় হয়। কনিকা ও তাঁর সহযোগীরা আকাশকে ইতালিতে উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখান। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে পরিবারের লোকজন গত জানুয়ারি মাসে দুই দফায় আসামিদের হাতে ৭ লাখ টাকা তুলে দেন।

গত ৮ নভেম্বর আকাশকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে করে ঢাকা থেকে প্রথমে বাহরাইন ও পরে জেদ্দায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে কৌশলে তাঁকে সৌদি আরবের একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। এরপর ১৪ নভেম্বর পুনরায় আকাশকে মিশরে পাঠিয়ে সেখান থেকে সমুদ্রপথে বা অন্য কোনো উপায়ে লিবিয়ায় পাচার করা হয়।

আকাশ লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চক্রটির আসল রূপ বেরিয়ে আসে। তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে ইতালি পাঠানোর নতুন নাটক সাজিয়ে এবং নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে পাচারকারীরা। নিরুপায় হয়ে আকাশের পরিবার ধারদেনা করে আসামি সুলতানের ব্যাংক হিসাবে সেই টাকা পাঠালেও আজ পর্যন্ত আকাশের কোনো খোঁজ পাননি তাঁরা।

প্রথমে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা গ্রহণ না করায় রিনা পারভীন গত ২১ জানুয়ারি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে কোতোয়ালি থানাকে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবককে উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় নারীকে পিটিয়ে চোখ নষ্টের অভিযোগ, পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

ইতালির প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার: যশোরের যুবককে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল চক্র

আপডেট: ১২:১৬:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উন্নত জীবনের আশায় ইতালি যেতে চেয়েছিলেন যশোরের যুবক আকাশ। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে তাঁর স্বপ্ন এখন লিবিয়ার বন্দিশালায় ধুঁকছে। ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে লিবিয়ায় পাচার করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আকাশের মা রিনা পারভীন বাদী হয়ে যশোর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি নিয়মিত হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন:
১. কাজী সফিকুর রহমান (কুমিল্লা)
২. কনিকা আক্তার (মাদারীপুর)
৩. হেমায়েত খান (শরিয়তপুর)
৪. সুলতান (নোয়াখালী)

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আকাশের বোন ফারজিয়া ইসলামের মাধ্যমে আসামি কনিকা আক্তারের সঙ্গে ওই পরিবারের পরিচয় হয়। কনিকা ও তাঁর সহযোগীরা আকাশকে ইতালিতে উচ্চ বেতনে চাকরির লোভ দেখান। তাঁদের কথায় বিশ্বাস করে পরিবারের লোকজন গত জানুয়ারি মাসে দুই দফায় আসামিদের হাতে ৭ লাখ টাকা তুলে দেন।

গত ৮ নভেম্বর আকাশকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে করে ঢাকা থেকে প্রথমে বাহরাইন ও পরে জেদ্দায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে কৌশলে তাঁকে সৌদি আরবের একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। এরপর ১৪ নভেম্বর পুনরায় আকাশকে মিশরে পাঠিয়ে সেখান থেকে সমুদ্রপথে বা অন্য কোনো উপায়ে লিবিয়ায় পাচার করা হয়।

আকাশ লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চক্রটির আসল রূপ বেরিয়ে আসে। তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর তাঁকে ইতালি পাঠানোর নতুন নাটক সাজিয়ে এবং নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে পাচারকারীরা। নিরুপায় হয়ে আকাশের পরিবার ধারদেনা করে আসামি সুলতানের ব্যাংক হিসাবে সেই টাকা পাঠালেও আজ পর্যন্ত আকাশের কোনো খোঁজ পাননি তাঁরা।

প্রথমে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা গ্রহণ না করায় রিনা পারভীন গত ২১ জানুয়ারি আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে কোতোয়ালি থানাকে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবককে উদ্ধার এবং পাচারকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।