নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর | ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে দীর্ঘ সময় পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন। এই দৌড়ে যশোর জেলা থেকে অত্যন্ত জোরালোভাবে নাম আসছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা সুলতানা মুন্নীর।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই বিএনপি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দাবি, এই অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক অবস্থান পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালী করতে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন যোগ্য, ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেত্রীকে প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে সাবিরা সুলতানা মুন্নীকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করছেন স্থানীয়রা। তিনি সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসন থেকে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
সাবিরা সুলতানা মুন্নীর রাজনীতিতে আসার গল্পটি বেশ শোকাবহ। ২০১১ সালে তাঁর স্বামী, যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি নাজমুল ইসলাম ঢাকা থেকে অপহৃত ও পরবর্তীতে নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন তিনি।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন সাবিরা মুন্নী:
: ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
: আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ভূমিকার কারণে ২০১৬ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত করেন।
সংকটকালীন ভূমিকা: বিগত ১৭ বছরে হামলা, মামলা ও কারাবরণ উপেক্ষা করে যশোর অঞ্চলে দলকে সুসংগঠিত রাখতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলার সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেন, সাবিরা মুন্নী কেবল একজন নেত্রী নন, বরং দলের দুর্দিনের কাণ্ডারি। তাঁকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত করলে যশোর অঞ্চলে বিএনপির নারী নেতৃত্ব যেমন বিকশিত হবে, তেমনি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।
ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সাবিরা সুলতানা মুন্নী তাঁর দীর্ঘ ত্যাগের মূল্যায়ন পাবেন—এমনটাই এখন যশোরবাসীর প্রত্যাশা।





















